মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০১৯ ইং

লঞ্চের তুলনায় পন্টুন সংকটে বরিশাল নদীবন্দর

মুক্তখবর :
মে ২৬, ২০১৯
news-image

ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯ (মুক্তখবর রিপোর্ট): গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক বিশালাকৃতির বিলাসবহুল বহুতল লঞ্চ সংযোজন হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে। ফলে প্রতিবছর এ রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরে আসন্ন ঈদে সরাসরি এ রুটে দিবা ও রাত্রিকালীন সার্ভিসে দুই ডজনের বেশি লঞ্চ চলাচল করবে। তবে বছরে বছরে নৌ-যানের সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না বরিশাল নদীবন্দরের পন্টুনের সংখ্যা। ফলে ঈদ-কোরবানিসহ বিভিন্ন সময়ে যাত্রীদের চাপের কারণে নৌযানের সংখ্যা বাড়লে দেখা দেয় পন্টুনের সংকট। তাতে একটি লঞ্চকে অন্য লঞ্চের পেছনে নোঙর করতে হয় এবং ঝুঁকির মধ্য দিয়েই মাঝনদীতে বসে যাত্রীদের লঞ্চে তুলতে হয়। যদিও রোটেশন প্রথার কারণে বছরের স্বাভাবিক সময়ে পন্টুন সংকটের তীব্রতার বিষয়টি সামনে আসছে না, তারপরও দিবা সার্ভিস ও সরকারি কোনো জাহাজ বন্দরের মূল টার্মিনালে কখনোই বার্দিং বা নোঙর করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে এর কারণে যাত্রীদের প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মাস্টার-চালকরা জানান, বরিশাল নদীবন্দরে দূরপাল্লার রুটের লঞ্চের যাত্রী ওঠা-নামার জন্য তিনটি পন্টুন নির্ধারণ করা রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৩শ ফুটের কিছু বেশি হতে পারে। যেখানে বৃহদাকারের ৫-৬টি লঞ্চ বার্দিং (নোঙর) করতে পারে। আর সর্বোচ্চ ৮টি লঞ্চ বার্দিং করা সম্ভব। বছরের স্বাভাবিক সময়ে রোটেশন প্রথার কারণে এতে সমস্যা না হলেও দুই ঈদ, বিভিন্ন পার্বনের ছুটিতে লঞ্চের বার্দিং নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে ঈদে যদি সরাসরি বরিশাল ঢাকা রুটে ১৫-২০ বা ২২টি লঞ্চ একযোগে চলাচল করে তবে বরিশাল নদীবন্দরে সেগুলো একসঙ্গে ঘাট দেওয়া সম্ভব নয়। আর বন্দরের উত্তর দিকে নাব্যতা সংকট থাকার পাশাপাশি খালের সংযোগমুখ থাকায় সেখানে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোকে বার্দিং করাও সম্ভব নয়। ফলে পন্টুন পূর্ণ হয়ে গেলে অন্য লঞ্চের পেছনে আরেকটি লঞ্চ থামাতে হবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠা-নামা করাতে হবে। এদিকে স্বাভাবিক সময়েও ভায়া রুটের লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দরে বার্দিং করতে গিয়ে হিমশিম খায় জানিয়ে মাস্টাররা জানান, অনেক সময়ই অন্য লঞ্চের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বার্দিং করে মাঝ নদীতে বসেই যাত্রী ওঠানামা করায় ভায়া রুটের লঞ্চগুলো। আর দিবা সার্ভিসে থাকা গ্রিনলাইন ও অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানির নৌযানসহ সরকারি স্টিমার কিংবা জাহাজতো নদী বন্দরের মূল ঘাটে কখনোই বার্দিং করে না। তাদের জন্য মূল ঘাট থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা ঘাট রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনো যাত্রী যদি নদীবন্দরে ভুলে প্রবেশ করে তাকে আবার সেখান থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় গিয়ে স্টিমার অর্থাৎ বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাটে যেতে হবে। আর এতে যাত্রীদের কষ্টের শেষ থাকে না। আর এসব কারণেই বরিশাল নদীবন্দরে পন্টুনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অতি জরুরি বলে মনে করেন লঞ্চের মালিক-চালক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। বরিশাল বিআইডব্লিউটি’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. কবির হোসেন জানান, বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে যে লঞ্চগুলো চলাচল করছে তার প্রতিটির প্রস্থ সর্বোচ্চ ৪৪ থেকে সর্বনিম্ন ৩৮ ফুট পর্যন্ত। বন্দরে যে ৬টি পন্টুন রয়েছে তার এক একটি ১০০ ফুট করে। যার মধ্যে তিনটি দূরপাল্লার ও তিনটি অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চের জন্য স্বাভাবিক সময়ে বরাদ্দ থাকে। তবে ঈদ বা কোরবানির সময় পল্টুনের বেশিরভাগ অংশই দূরপাল্লার লঞ্চের বার্দিং করার জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তারপরও হিমশিম খেতে হয়, অনেক লঞ্চকেই পন্টুনে জায়গা দেওয়া সম্ভ হয় না।  এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় অস্থায়ীভাবে যতদ্রুত সম্ভব নতুন পন্টুন সংযোজন, নয়তো লঞ্চ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রেখে সিরিয়াল অনুসারে ঘাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।