বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ভূঞাপুর কথিত ভন্ড পীর তারা তালুকদার যুবতীসহ ভূরুঙ্গামারীতে আটক

মুক্তখবর :
মে ২৯, ২০১৯
news-image

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী গ্রামের মৃত সোনা তালুকদারের ছেলে কথিত পীর তারা তালুকদার (৭০) কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে যুবতীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করায় পীরকে আটক করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউপির ভরতেরছড়া গ্রামের লক্ষীমোড় নামক স্থানে। আটক কথিত পীর তারা তালুকদার (৭০) দাবী যুবতী তার স্ত্রী। যুবতী মাহফুজা আক্তার সুমী (২৫) দাবী তাকে জোর করে প্রায় ২০ দিন ধরে বিভিন্ন মুরিদের বাড়িতে নিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্তে বাধ্য করেছেন তারা তালুকদার। টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের মৃত সোনা তালুকদারের ছেলে নিজেকে পীর হিসাবে জাহির করে আসছিলো। সে ২০ বছর পূর্বে ভারত থেকে এসে গোবিন্দাসী গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালী মাতাব্বরের ছত্রছায়ায় ওই অনৈতিক কাজগুলো করে আসছিলো। কিছুদিন ধরে গোবিন্দাসী গ্রামে তার ওই অনৈতিক কার্যক্রম থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছিলো।  ইতিমধ্যে ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট এলাকার বিভিন্ন শিষ্যের বাড়িতে আসতো। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ খানেক আগে লক্ষ্মী মোড়ের জনৈক শিষ্যের বাড়িতে এক যুবতীকে নিয়ে আসে। গত রোববার ব্যবসায়ী জহির উদ্দিনের বাড়িতে দাওয়াতে আসে। এসময় সুমি জহির উদ্দিনের দু’পা জড়িয়ে ধরে পীরের কুকীর্তির কথা বলে তাকে বাঁচানোর আকুতি করে। জহির গ্রামবাসীদের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসীরা দু’জনকে আটক করে রাখে। সুমি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি ইউপির নবীনেওয়াত গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে। তিনি জানায় তার মা মোছাঃ তারাভানু ওই পীরের মুরিদ। এরই সূত্রে পীর তারা তালুকদার তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। ২০/২২ দিন আগে তাকে পীরের নাতি জুরান আলীর সাথে বিয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়ে আসে। সেখানে বিয়ে না দিয়ে মুরিদের বাড়িতে বাড়িতে রাত্রি যাপন সহ অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছে। কথিত পীর তারা তালুকদার জানায় সুমির সাথে তার মৌখিক বিয়ে হয়েছে। তিনি আরও জানায় সে খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর চিশতীয়া তরিকার নিজামীয়া খান্দানের অনুসারী এবং দেশব্যাপী তার তিন সহস্রাধিক মুরিদান রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২ ছেলে ১ মেয়ের জনক। বড় ছেলে সৌদি প্রবাসী এবং ছোট ছেলে ড্রাইভার। এ ব্যাপারে বঙ্গসোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ শাহজাহান আলী মোল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরদিন ২৮ শে মে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে আটককৃতদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির ঘটনাটির সত্যতা শিকার করেছেন। এই ব্যাপারে গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্য ডাঃ মোঃ মজনু মিয়া জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে আটক হয়েছে। আমি ওর শাস্তি দাবী করছি এবং এই ব্যাপারে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।