রবিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং

নয়াপল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের বিক্ষোভ, ককটেল বিস্ফোরণ

মুক্তখবর :
জুন ২৪, ২০১৯
news-image

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার): সদ্য বিলুপ্ত কমিটির বেশ কয়েকজন নেতাকে বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়ার পরও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় নয়াপল্টনে আজও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, মিছিল করেছেন।

আজ সোমবার সকালের পর থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় ছোট ছোট মিছিল নিয়েও নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। এর পরপরই গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্টের গলি ও মূল রাস্তায় পর পর দুটো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আরো চারটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে একটি বিস্ফোরিত হয়নি।

এ সময় আশপাশের লোকজন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে কারা এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি জানা যায়নি।

এদিকে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তাঁরা বহিষ্কারাদেশ বাতিলের পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিল অধিবেশনের তফসিল বাতিলের দাবিও জানান। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন।

গত ৩ জুন রাতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে দেয় বিএনপি। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। কাউন্সিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ২০০০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতার শর্তারোপ করা হয়।

এর প্রতিবাদে গত ১০ জুন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিক্ষুব্ধরা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই কর্মসূচি চলছিল।

এর মধ্যে গত শনিবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের’ ১২ নেতাকে ‘দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে’। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিএনপির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নেতারা হলেন—ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন, ছাত্রদলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সহসাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আবদুল মালেক ও সদস্য আজীম পাটোয়ারী।

এরপর গতকাল রোববার বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ১৫ জুলাই ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সরাসরি ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।

ছাত্রদলের কাউন্সিল উপলক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৪ জুন। ভোটার তালিকার আপত্তি গ্রহণ ২৫ জুন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৬ জুন। প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্র বিতরণ ২৭ ও ২৮ জুন। মনোনয়নপত্র গ্রহণ ২৯ ও ৩০ জুন। প্রার্থিতা যাচাই ও বাছাই ১ থেকে ৩ জুলাই। প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ ৪ জুলাই। প্রার্থীদের সম্পর্কে আপত্তি গ্রহণ ৫ জুলাই, আপত্তি নিষ্পত্তি ৬ জুলাই। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ৭ জুলাই। নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ১৫ জুলাই সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘কাউন্সিলে বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তারা তো ছাত্রের মধ্যেই পড়ে না। তাদের প্রার্থী হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রার্থীদের ২০০০ সাল বা এর পরে এসএসসি এবং রেজিস্ট্রেশন ১৯৯৮ সাল বা এর পরে হতে হবে।’

তারপর আজও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একটি অংশের নেতাকর্মীরা। সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। তাই ছাত্রদলের কাউন্সিলর জন্য ঘোষিত তফসিল নতুন করে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া যে ১২ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। এবং ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনে বয়সসীমা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সেটি শিথিল করতে হবে।’

‘আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আর যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার দায় সিন্ডিকেটকে নিতে হবে,’ যোগ করেন ওমর ফারুক।