শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ

মুক্তখবর :
জুন ২৫, ২০১৯
news-image

নুর আলম প্রিন্স: ২ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে মিরপুর ১০নং গোলচত্বর সংলগ্ন ৫ কাঠা আয়তনের ১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম। মিরপুর সেকশন ১০ এর বি ব্লকের ১নং রোডের ৯নং প্লটটি ১৯৬৮ সালে জনৈকা নাজির আক্তার, স্বামী-ক্যাপ্টেন ই এ ভূইয়া বরাদ্দ প্রাপ্ত হন। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন। বরাদ্দ গ্রহিতা নাজির আক্তার ১৯৭৭ সালে এবং তার স্বামী ক্যাপ্টেন ই এ ভূইয়া ১৯৮০ সালে মারা গেলে সম্পত্তিটি বেওয়ারিশ সম্পত্তিতে পরিণত হয়। জানা যায়, তাদের একমাত্র পুত্র আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া তাদের জীবনদ্দশাতেই নিরুদ্দেশ হলে এই সম্পত্তি বেওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে সরকার সকল বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৯৮৬ সালে পরিত্যাক্ত সম্পত্তির তালিকাভূক্ত করে। যা এস আর-৩৬৪, এস/৮৬ এর মাধ্যমে ২৩/৯/১৯৮৬ তারিখে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। বি-১০/১-৯ নং বাড়িটি পরিত্যাক্ত সম্পত্তির তালিকাভূক্ত হওয়া স্বত্তেও এ বাড়িটির দখল ও ব্যবস্থাপনা সরকারি দপ্তর (অচগই) কর্তৃক গ্রহণ না করার সুযোগে জনৈক শফিউদ্দিন ভূইয়া ভুয়া আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া সাজিয়ে আম মোক্তার নামা দলিল সম্পাদন করেন এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে হাত করে লিজ দলিল সম্পাদন ও নামজারী করিয়ে নেন। উক্ত ভুয়া আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া এর আমমোক্তার গ্রহিতা মারা গেলে তার ওয়ারিশগন তথা রহিমা বেগমগং একটি ডেভেলপার কোম্পানীর সাথে উক্ত অর্পিত সম্পত্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এর মালিক লায়ন শামসুল আলমের অনুকূলে আমমোক্তার প্রদান করেন।
এদিকে আরেক জালিয়াত চক্র জনৈক মিজানুর রহমান একইভাবে জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে ভুয়া আরেকজন আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া দাঁড় করিয়ে পূর্বে রহিমাগং এর নামজারী বাতিল করে নিজের নামে নাম জারি এবং হস্তান্তর অনুমতি গ্রহণ করেন। প্লটনি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভূক্ত থাকা সত্ত্বেও এ তথ্য গোপন করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী অর্থের বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি বিশেষের অনুকূলে ছেড়ে দেয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। এদিকে পূর্বের রহিমাগং এর নামজারী বাতিল করে মিজানুর রহমান জাল দলিল সৃষ্টি করে প্লটের দখল গ্রহণ করতে গেলে রহিমাগং চেয়ারম্যান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন সদস্য (ভূমি) এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম পক্ষগণকে বিস্তারিত শুনানি করে অর্পিত সম্পত্তির প্লটটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সম্মক বিষয়ে অবহিত হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে তৎকালীন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদকে দিয়ে একটি দায়সাড়া গোছের প্রতিবেদন বানিয়ে পরিত্যাক্ত সম্পত্তিটি উল্লেখিত মিজানুর রহমানের অনুকূলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে রাশিদুল ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলে সদস্য (ভূমি) হিসেবে মোঃ মুকবুল হোসেন যোগদান করেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন ও নথি পর্যালোচনা করে গত ২৮/১১/১৮খ্রিঃ তারিখে আদেশ প্রদান করেন। তিনি তার আদেশে পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেন যে, মিরপুর ১০ নং সেক্টরের ‘বি’ ব্লকের ১নং রোডের ৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটে প্রকাশিত হওয়ায় এ সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় ব্যবস্থাপনার কোন সুযোগ নেই। তিনি পূর্বের সকল আদেশ বাতিল করে ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সৃষ্টি করা নথির সকল কার্যক্রম বন্ধ করেন এবং এ সম্পত্তি সরকারী ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিট দপ্তর সমূহে পত্র প্রেরণ করেন। জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম সদস্য (ভূমি) হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ১০ কোটি টাকা মূল্যের প্লটটি জালিয়াতি চক্রের হোতা মিজানুর রহমান এর বরাবরে মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার দফারফা করেছিলেন। কিন্তু সদস্য (ভূমি) মোঃ মকবুল হোসেন উক্ত সম্পত্তি বহু পূর্বেই অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ তালিকাভুক্ত থাকায় অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড কর্তৃক পরিচালনার আদেশ দিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে পত্র প্রেরণ করলে চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসে। তিনি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের রেফারেন্স দিয়ে সদস্য ভূমিকে তার দেওয়া আদেশ সমূহ বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কিন্তু সদস্য (ভূমি) মোঃ মকবুল হোসেন এর দেওয়া আদেশ বদলাবেন না মর্মে সাফ জনিয়ে দিলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং গোপনে গত ১/১/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে নথি তলব করে সদস্য (ভূমি) মোঃ মকবুল হোসেনের দেয়া আদেশ সমুহ বাতিল করে সরকারের ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিয়ে ২ কোটি টাকায় দফা রফা পাকাপোক্ত করেন। চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম সদস্য ভূমির আদেশ সমূহ বাতিল কালে যে সমস্ত যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তা একেবারেই মনগড়া। জানা গেছে, মিজানুর রহমান এর নিকট হতে যে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অগ্রিম হিসেবে চেয়ারম্যান গ্রহণ করেছিলেন তা ফেরত প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তিনি গোপনে উক্ত মিজানুর রহমানের নিকট হতে আরেকটি আবেদনপত্র নিয়ে তার ভিত্তিতেই এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে সদস্য ভূমির আইন সম্মত সকল আদেশ বাতিল করেন। এখানে উল্লেখ্য যে সদস্য (ভূমি) সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আদেশ দানের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। তার আদেশ বাতিল করার একমাত্র ক্ষমতা আছে আদালতের। কিন্তু চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আইনবহির্ভূত আদেশ প্রদান করেন। চেয়ারম্যানের এইরূপ অবৈধ আদেশের ফলশ্রুতিতে ইতিপূর্বে সদস্য ভূমির দেওয়া আদেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডেভেলপার কোম্পানি হাই পেরিয়ানের অবৈধ নির্মাণ কাজ পুনরায় পুরোদমে আরম্ভ হয়েছে। সরকারী সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়ায় দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। (অসমাপ্ত)