শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

দক্ষিণের ৫০ লাখ মানুষ খাবার পানি সংকটে

মুক্তখবর :
জুন ২৫, ২০১৯
news-image

মনিরুজ্জামান মনি: দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলের তিন জেলা সাতক্ষীরা খুলনা বাগেরহাটের ৫০ লাখ মানুষ খাবার পানি সংকটে ভুগছে। এ এলাকার ৭৯ শতাংশ নলকূপে কমবেশি আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে। অপরদিকে গভীর নলকূপেও রয়েছে লবনাক্ততা ও আর্সেনিক। সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বেসরকারি পর্যায়ের এক গবেষণালব্ধ তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে একথা জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ। এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন সুপেয় পানি সংকটের পাশাপাশি দুর্যোগকালে এ এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। ভূ উপরিস্থ জলাধার খনন করে আর্সেনিকমুক্ত পানি সংরক্ষন ও তা বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান কেন্দ্রিয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, পানি কমিটির মইনুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহিসহ অন্যরা। তারা পািন অপচয় রোধের ব্যাপারেও সচেতন হবার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন সরকার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে গভীর নলকূপ খনন করে পািন সংকট নিরসনের চেষ্টা করলেও বাস্তবে তাতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এ জন্য এখনও গ্রামের নারীদের প্রতিদিন ভোরে ও বিকালে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ২/৩ শ্রমঘন্টা ব্যয় করে কলসীতে করে পানি নিয়ে আসতে হয়। ১২০০ ফুটে পর্যন্ত খননকৃত নলকূপের পানিও লবণাক্ত এবং তা আর্সেনিকযুক্ত উল্লেখ করে তারা বলেন এই সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যের জন্য এই পানি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন জানিয়ে তারা বলেন এ এলাকায় যেসব পুকুর ছিল তা একদিকে যেমন ভরাট হয়ে যাচ্ছে তেমনি লোনা পানির চিংড়ি চাষ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টি পানি মিলছে না। বিশ^ ব্যাংকের রিপোর্ট তুলে তারা আরও বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে দারিদ্র্য হার ২১.৬ শতাংশ। অথচ সাতক্ষীরা জেলায় দারিদ্য্রের হার ৪৬ শতাংশ। তাদের পক্ষে পািন কিনে খাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা আয়রণ, লবণ ও আর্সেনিকযুক্ত পানি খেয়ে নানা রোগের মুখে পড়ছেন। একইভাবে দুর্যোগে তাদের ক্ষতিগ্রস্থ ল্যাট্রিন পুননির্মান বা সংস্কার করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও তাদের নেই। এসব কারণে তারা চর্মরোগ, পেটের পীড়া, আমাশয়, জ¦র, ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ নানা রোগের কবলে পড়ে। সংকটের কারণে শুধু খাবার পানি নয়, গৃহস্থালি কাজেও তারা লবনাক্ত ও দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা আরও বলেন জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততার কারণে এসব এলাকায় দারিদ্র্য হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের তুলনায় এই হার বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ এলাকায় সুপেয় পানি এবং ল্যাট্রিন সরবরাহ সহজলভ্য করলে তা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন তারা। দেশের অধিকাংশ এলাকায় খাবার পানি সংকটের সমাধান করেছে রাষ্ট্র। এমনকি তারা বিনা খরচেই এই সুবিধা পেয়ে থাকেন উল্লেখ করে বক্তারা বলেন দক্ষিন পশ্চিম এলাকার মানুষ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে বাজার থেকে কিনে অথবা অনিারপদ পানি ব্যবহার করে আসছে। স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকে এ এলাকার অনন্য ভূ প্রকৃতি ও পরিবেশবিরোধী বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়ায় অনেক সসমস্যা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতার অন্যতম অভিঘাত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ল্যাট্রিনগুলি। পদ্মা প্রবাহের কারণে এলাকার বিচ্ছিন্নতা ও ব্যাপকভাবে নোনা পানির চিংড়ি চাষের কারণে এলাকায় লবনাক্ততার তীব্রতা বেড়েই চলেছে। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হবার কারনে এ এলাকায় লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা। তারা আরও বলেন দক্ষিন পশ্চিম এলাকার ভূমি গঠন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় না দ্ধতার অন্যতম অভিঘাত হচ্ছে সরকার দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও গভীর ও অগভীর নলকূপ প্রযুক্তি ব্যহার করছে। কোনো প্রকার হাইড্রলজিক্যাল জরিপ ছাড়াই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় মানুষ উপকার পচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে চার দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলি হচ্ছে ভূ গর্ভস্থ পানির অবস্থান নিয়ে হাইড্রলজিক্যাল অনুসন্ধান পরিচালনা, পুকুর, দীঘি খনন করে দূষনমুক্ত জলাধার সৃষ্টি করা, দরিদ্র,প্রতিবন্ধী, দলিত ও নারীদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ, সুপেয় পানির জন্য এ এলাকায় প্রযোজ্য নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।