রবিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে গুরুত্বের শীর্ষে রোহিঙ্গা ইস্যু

মুক্তখবর :
জুন ২৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমাধানের পথ মিলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তারা আশাবাদী, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ সফরে ঘটবে নাটকীয় কিছু। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। প্রতিবেশী ও সর্বোচ্চ মাত্রার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মিয়ানমারের ওপর সব অর্থেই রয়েছে অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের ব্যাপক প্রভাব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পুরো বিশ্ব যখন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে, তখনও বরাবরই চীন আছে পাশে। এমনকি অনেকে মনে করেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্ষদেও চীনের ভূমিকার কারণে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না গণহত্যায় অভিযুক্ত দেশটির বিরুদ্ধে।

সমান্তরালে চীন শক্ত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখছে বাংলাদেশের সাথেও। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফর করেছেন ঢাকা। ঢাকার মন্ত্রীও গেছেন বেইজিং। এমনকি প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের করা চুক্তির পিছনেও নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে চীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরেও গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার যেহেতু চীনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের কথা মানে তাই তারা বললে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে করবে বলে আশা করছি। চীন আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে তাতে এটি সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী।

কূটনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তারাও জোর দিয়ে বলছেন, এ সফরে আসবে ইতিবাচক অনেক কিছু। সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওয়ালিউর রহমান বলেন, চীন মিয়ানমারকে বলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, চীন এই ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। এই সফর এই ধরণের ঘোষণার একটা উপযুক্ত সময়।

ওয়ালিউর রহমান বলেন, চীন হয়ত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বলতে পারে কিংবা বলতে পারে তোমরা জাতিসংঘে আসো, আমরা ভেটো দিব না। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন বলেন, চীনের মানসিকতার পরিবর্তন রাতারাতি হবে না। তাদের মধ্যে একটা উপলব্ধির দরকার আছে।

তাদের আশাবাদ, মিয়ানমার ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং বাংলাদেশের সাথে গতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান বদল করবে চীন।