সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার তিন বছর, বিচারে ধীরগতি

মুক্তখবর :
জুলাই ৭, ২০১৯
news-image

ঢাকা, রোববার, ০৭ জুলাই ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার): কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার তিন বছর পূর্তি আজ। ২০১৬ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় চালায় জঙ্গিরা। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ, দুই জঙ্গিসহ নিহত হয় ৫ জন।

এখনও আতংক কাটেনি এলাকাবাসীর। শোক কাটেনি নিহত ও আহতদের পরিবারে। ভয়াবহ এ জঙ্গি হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা থাকায় তাদের সময় মতো আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ শুরুর কিছু আগে জঙ্গিদের গুলি আর বোমায় কেঁপে উঠে চারপাশ। পুলিশের সাথে শুরু হয় জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ। আতংক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঈদগাহের কাছে মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছাকাছি পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা। বোমা আর গুলির শব্দে কেঁপে উঠে শোলাকিয়া ময়দানের আশপাশ। হামলায় নিহত হয় পুলিশের দুই কনস্টেবল।

একই সময় নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক। এখনও শোকে কাতর তার স্বজনরা। ঝর্ণা রানীর স্বামী ও ছেলে বলেন, জঙ্গিমুক্ত দেশ দেখতে চান তারা।

পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম ডন নামে এক জঙ্গিকে। পরে সেও মারা যায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে। হামলার ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

এরই মধ্যে জঙ্গি হামলা মামলায় শুরু হয়েছে বিচার কার্যক্রম। তবে জঙ্গিদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে হলি আর্টিজানসহ অন্যান্য মামলা থাকায় তাদরে নিয়মিত আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ আজিজুল হক।

তিনি বলেন, এরমধ্যে আরো দুটো তারিখ ছিল, বিচারকের অনুপস্থিতি ও আসামীদের অনুপস্থিতির কারণে আমরা স্বাক্ষ্যপ্রমাণ করতে পারি নি। এ মামলায় জঙ্গিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশাবাদের কথা জানান, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকর রহমান খালেদ।

শোলাকিয়া হামলার ঘটনায় ওই বছরের ১০ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় শীর্ষ ৫ জঙ্গি। বর্তমানে কারাগারে আছে জেএমবি সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, অনোয়ার হোসেন, সোহেল মাহমুদ, রাজীব গান্ধী ও জাহিদুল হক তানিম নামে ৫ জঙ্গি।