সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ

মুক্তখবর :
জুলাই ১১, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার): গেলো এক মাসে দফায় দফায় ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খুচরা বাজারে ডিমের হালি ঠেকেছে ৪০ টাকায়। এতে আশঙ্কা আছে ডিমে ওপর নির্ভরশীল খাদ্যপণ্য দাম বাড়ারও। ডিম উৎপাদনকারীদের সংগঠন বলছে, লোকসানের কারণে অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।

ঢাকার আশপাশে সাভার মানিকগঞ্জে ব্যক্তি উদ্যোগে ডিম উৎপাদনে জন্য ছোট মাঝারি অনেক খামার গড়ে উঠেছিলো। তবে, স্বল্প পুঁজির এসব খামারে লোকসানের বোঝা টেনে অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ডিম উৎপাদনকারী খামারের সংগঠনের তথ্যমতে, স্বল্প পুঁজি, ডিমের কম দাম , রোগ বালাইসহ নানা কারণে অন্তত ৪০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

উৎপাদন কমে যাওয়ায় রমজানের পর থেকেই বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দাম। খামারে সাড়ে ৫ টাকা থেকে ছয় টাকায় বিক্রি ডিম মাস ঘুরতেই এখন ৮ টাকার বেশি। খামারিদের হিসেবে, সবকিছু মিলিয়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় ৫ টাকার মতো। দাম বাড়ার এই সুযোগে বড় খামারগুলো দখল করেছে বাজার অন্যদিকে টিকে থাকা ছোট খামারগুলো দেখেছে লাভার মুখ। এক খামারি বলেন, ‘১০-১২ টা খামার ছিল। এখন একটাও নেই। খাদ্যের দাম, মেডিসিনের দাম দিয়ে সমান সমান থাকতো।’

হঠাৎ করে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু কম দামে কিনতে খুচরা ক্রেতা আসছেন পাইকারি বাজারে। তবে, বাজারে অন্য পণ্যের দামে হিমশিম খাওয়া ক্রেতা ডিমেরে বাজারে ঊর্ধ্বগতিতে অস্বস্তিতে পড়েছেন। ডিম কিনতে আসা ক্রেতা বলেন, ‘৬০ টা ডিম কিনি আমরা ৪৮০ টাকায়। গতমাসে ৪২০ টাকায় কিনেছি। এই মাসে দেখি ৫৪০টাকা।’

পাইকারি বাজারে একটি ডিম কিনতে খরচ করতে হয় সাড়ে আট টাকায় বেশি। শুধু মুরগী নয় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাঁসের ডিমের দামও। এমন অবস্থায় শিগগিরি দাম কমার কোন লক্ষণ দেখছেন না পাইকাররা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘হাঁসের ডিম রোজার আগে ছিল ১২০০ টাকা। এর মাঝে কিছু কমেছে, এখন আবার বেড়েছে।’ খুচরা বাজারে একজন ক্রেতাকে ডিম কিনতে হচ্ছে হালি প্রতি ৪০ টাকায়। মাসের ব্যবধানে হালিতে ৮-১০ টাকা বাড়ায় ক্রেতাদের প্রশ্নে নিরুপায় তারা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ কাউন্সিলের হিসেবে, প্রতিদিন ডিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন ৩ কোটি ৮০ লাখ পিস। সে হিসেবে গেলো কয়েকবছরে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি পিস উৎপাদন হচ্ছে। লোকসংখ্যা বাড়ার সাথে বাড়ছে চাহিদাও। তাই চাহিদা সমন্বয় করে উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক রাখা না গেলে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। ডিমের দাম না কমলে আশঙ্কা আছে ডিমের ওপর নির্ভর খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ার।

ডিমের সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম কমে। সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। ৬০ শতাংশ খামার নেই। ৪০ শতাংশ খামার চলছে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে ৪০ থেকে ৬০ ডিম খায়। মাছ মাংসের পাশাপাশি আমিষের চাহিদার বড় যোগানদাতা ডিম।