শনিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

ট্রাম্পের ‘বর্ণবাদী’ টুইটে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ

মুক্তখবর :
জুলাই ১৭, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ (মুক্তখবর ডেস্ক): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার নারী কংগ্রেস সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে বলার পর থেকেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠেছে। কিন্তু রাজধানীর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ট্রাম্পের বক্তব্যকে কীভাবে দেখছেন, তার একটি চিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বর্ণবাদী’ টুইটের পর মার্কিন জনগণের মধ্যে ট্রাম্পকে পছন্দ করেন এবং ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন—এমন দুটি শিবির আরো প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

ভার্জিনিয়া রাজ্যের লিসবার্গ অঞ্চলে এমন দুটি বিপক্ষ শিবিরের সমর্থকরা জোরালো যুক্তিও তুলে ধরেছেন। প্রাচীন জিনিসপত্র (অ্যান্টিক) নিয়ে কারবার করেন লিসবার্গের বাসিন্দা সুসি মুরস্টেইন। ট্রাম্পের টুইট তাঁকে প্রচণ্ড ভয় পাইয়ে দিয়েছে দাবি করে সুসি বলেন, ‘ফ্যাকাসে হয়ে গেছি বললেও কম বলা হবে। সবার ভেতরকার কুৎসিত দিকগুলো এখন বেরিয়ে আসবে।’

‘আমাদের দেশে বর্ণবাদ-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করার জন্য চেষ্টা করছিলাম আমরা। কিন্তু তিনি (ডোনাল্ড ট্রাম্প) প্রতিনিয়ত সমস্যাগুলো নিয়ে খোঁচাখুঁচি করেই যাচ্ছেন,’ যোগ করেন সুসি। সুসি জানান, তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে হিলারিকে পছন্দ করেন বলে নয়, ভোট তিনি হিলারিকে দিয়েছিলেন, কারণ ট্রাম্পকে তিনি অপছন্দ করেন।

সুসি আরো জানান, আইনপ্রণেতা, ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য, এমনকি ট্রাম্প যেভাবে জনসমক্ষে কথা বলেন, ট্রাম্পের শব্দচয়ন সবকিছুতেই ‘বর্ণবাদের’ গন্ধ লেগে থাকে। বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড হতাশ সুসি বলেন, ‘ব্যাপারটি খুবই ভয়ংকর। মাঝেমধ্যে মনে হয়, হঠাৎ কোনো দুঃস্বপ্ন দেখার মাঝে জেগে উঠলাম।’

ঝামেলার শুরু হয় গত রোববার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, যেসব আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন, তাঁদের উচিত ‘যেখান থেকে তাঁরা এসেছেন, সেখান ফিরে যাওয়া। যেসব ধ্বংসস্তূপ ও অপরাধের আখড়া থেকে এসেছেন, সেখানেই ফিরে গিয়ে সেগুলো ঠিক করতে সাহায্য করুন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমাদের দেখান, কীভাবে কাজগুলো করলেন।’

ট্রাম্পের এমন অপমানজনক বক্তব্য কংগ্রেসের যে চারজন নারী সদস্যকে উদ্দেশ করে, তাঁরা হলেন—নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেস, মিশিগানের রাশিদা তালিব, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিনেসোটার ইলহান ওমর। তাঁদের মধ্যে কেবল ইলহান ওমরের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। তাঁর জন্ম সোমালিয়ায়। বাকি তিন কংগ্রেস সদস্যের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক নেতারা। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের টুইটের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আসলে ছিল ‘মেক আমেরিকা হোয়াইট অ্যাগেইন’।” অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করাই ছিল ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য, এমন দাবি এই ডেমোক্র্যাট নেতার।

ভার্জিনিয়ার একটি গির্জার জ্যেষ্ঠ ধর্মযাজক মিচেল টমাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্যে চরম হতাশ তিনিও। মিচেল বলেন, ‘তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার আছে কার? কেবল কালো ও বাদামি চামড়ার মানুষগুলোকেই দেশ ছাড়তে হবে? বর্ণবাদ একটি শেখানো আচরণ। আর ট্রাম্প আমেরিকাকে শেখাচ্ছেন কীভাবে ঘৃণা করতে হয়।’

অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন বুতা বিবেরাজ। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। ট্রাম্পের ‘বর্ণবাদী’ বক্তব্য জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন তিনি।

বুতা বিবেরাজ বলেন, “‘বিভক্ত করো এবং জয় হাসিল করো’—এই তত্ত্বের গুরু ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন।”

সুসি মুরস্টেইন ও বুতা বিবেরাজের মতো অনেকেই মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের কারণে সাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং ক্রমশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ট্রাম্পের পক্ষেই তাঁদের অবস্থান। ডেমোক্র্যাট, লিবারেল ও অন্যরা ট্রাম্পের টুইট নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ করছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে ট্রাম্পের টুইট বর্ণবাদকে উসকে দিচ্ছে কি দিচ্ছে না, তা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও একটি বিষয়ে লিসবার্গের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ একমত। তা হলো—আসছে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ভোট দেবেন তাঁরা সবাই। আর ভোটের ফল ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যেকোনো পক্ষেই যেতে পারে।