বৃহস্পতিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ভূঞাপুরে বন্যার অবনতি, পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ

মুক্তখবর :
জুলাই ১৮, ২০১৯
news-image

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অংশে। এতে করে উপজেলার গাবসারা, গোবিন্দাসী, অর্জুনা ও নিকরাইল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ভাঙন এলাকার মধ্যে রয়েছে খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া, চরচিতুলিয়া, বাসুদেবকোল, রামাইল, রুলীপাড়া, রাজাপুর, ডিগ্রিরচর, তাড়াই, চর তাড়াই, কুঠিবয়ড়া, কোনাবাড়ী, নলছিয়া সহ অর্ধশত গ্রাম। এদিকে গোবিন্দাসী বাজারে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ী ও যমুনা চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। পানি বন্ধি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। বাড়ছে পানিবাহিত রোগবালাই।

করালগ্রাস যমুনার এ ভাঙনের ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক’শ পরিবার। বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই রাস্তার দু’পাশে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তীব্র পানি বৃদ্ধি হওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে পানি বন্ধিরা। ফার্মে পানি প্রবেশ করায় মাথায় হাত পড়েছে পোল্ট্রি খামারীদের। স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে গত বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১২ টার দিকে তাড়াই গ্রামের রাস্তা ও বৃহস্প্রতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ভেঙে বাহাদীপুর, টেপিবাড়ী, বেতুয়া, কুতুবপুর ও পলশিয়া সহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হুঁমকিতে রয়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক। এই সড়কে ইঁদুরে গর্ত করায় বিভিন্ন স্থানে পানি নিকাশ হচ্ছে। তাড়াই গ্রামের বাঁধ ভাঙনের ফলে পানির নীচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও আমন ধানের বীজতলা।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আরোাও দু’একদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

ইউনিয়নের রেহাইগাবসারা গ্রামের পানি বন্ধি হওয়া রহমান শেখ জানান, উপজেলার গাবসারা চরাঞ্চলের যমুনার বানের পানিতে পুরোটাই তলিয়ে গেছে। এই অসময়ে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। ঘরে পানি প্রবেশ করায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং গো-খাদ্য সংকটে পড়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে ত্রাণ সহায়তা পাইনি।

জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত যমুনা নদীর বন্যায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা বিতরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আরোও ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।