মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ব্রহ্মপুত্র-ঘাঘটের জলে বিপর্যস্ত গাইবান্ধার জনজীবন

মুক্তখবর :
জুলাই ২০, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি): উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র আর ঘাঘটের আগ্রাসী ভূমিকায় হাবুডুবু খাচ্ছে ভাটির জেলা গাইবান্ধার মানুষ। সড়কের পর সড়ক লণ্ডভণ্ড করে রেল লাইনে আঘাত হেনেছে প্রবল স্রোত। শ্রাবণের এই বন্যায় কোমর ভাঙার দশা কৃষক আর মাছ চাষিদের। নদ-নদীগুলো কবে শান্ত হবে আর কবেই বা জীবন তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবে এমন প্রশ্নের উত্তর জানেন না বানভাসি মানুষ। বাঁধ ভাঙা স্রোতের তোড়ে সড়কের পর সড়ক ভেঙে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ। আর বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে চর-দ্বীপচরের বাড়িঘর। প্রত্যন্ত এলাকায় বাস বলে খুব সহজে সাহায্য পৌঁছায় না বানভাসিদের হাতে। চরবাসীরা বলেন, যোগাযোগ অবস্থা খুব ভয়াবহ, ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে। বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে ফসল বাড়ি সব নদীতে চলে যাচ্ছে। সরকারের কাছ থেকে এখনো কিছু আসেনি আমাদের জন্য। আমন বীজতলা, পাট, সবজি ক্ষেত সবই ধুয়ে মুছে নিয়ে গেছে প্লাবন। হঠাৎ করে ফুলে ফেঁপে ওঠা বানের পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্য চাষিদের মাথায় হাত। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি উঠলেও তা মানতে নারাজ স্থানীয় সংসদ সদস্য। গাইবান্ধা-৫ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকা বলে ঘোষণা করার মতো কোনো অবস্থা এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে এটা ঠিক ১৯৮৮ সালে যে বন্যা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি বড় বন্যা এবার হয়েছে। গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, বিশুদ্ধ পানির সংকট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকটে মানুষ যে দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে তাতে এই এলাকা আরো আগেই বন্যাদুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল। গেলো কয়েকদিনের বন্যায় তলিয়ে গেছে ৩০ হাজার পুকুর। টাকার অঙ্কে যার ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০ কোটি টাকা। বানের পানিতে বিনষ্ট হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষেত।