রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি: প্রিয়া সাহার উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

মুক্তখবর :
জুলাই ২০, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহার অভিযোগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণই মিথ্যাচার। তিনি (প্রিয়া সাহা) হীন স্বার্থ উদ্ধার করতেই এ মিথ্যাচার করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল পাবলিসিটি উইংয়ের উপপরিচালক (মিডিয়া) স্বাক্ষরিত এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ জুলাই প্রচারিত একটি ভিডিও বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে, যেখানে প্রিয়া সাহা নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরো বলেছেন, মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীরা তাঁর জায়গা-জমি কেড়ে নিয়েছে। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে বসবাস করতে পারে সে জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাহায্য চেয়েছেন।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ তারিখে ওয়াশিংটনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু অ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেন প্রিয়া সাহা। প্রিয়া সাহার অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রিয়া সাহার এ নির্জলা মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছে। পাশাপাশি প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র নিন্দাও জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রিয়া সাহার এ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সাজানো গল্প বাংলাদেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে বাংলাদেশের। বছরের পর বছর ধরে এখানে সর্ব ধর্ম-বিশ্বাসের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রসঙ্গত গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে কথা বলেন। এতে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে (বাংলাদেশে) ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে (বাংলাদেশে) ১৮ মিলিয়ন (এক কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের (বাংলাদেশে) থাকতে সাহায্য করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’ এ সময় ট্রাম্প জানতে চান, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় পলিটিক্যাল শেল্টার (রাজনৈতিক ছত্রছায়া) পায়।’ হোয়াইট হাউজের ওয়েব সাইটের বিবৃতিতে বাংলাদেশি ওই নারীকে মিসেস সাহা পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায় ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক।