রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সিরাজগঞ্জের ৩৮৮ গ্রাম বন্যাকবলিত

মুক্তখবর :
জুলাই ২৩, ২০১৯
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৩৯টি ইউনিয়নের ৩৮৮টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে পানি সরে না যাওয়ায় বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে আসেননি। বাঁধের ওপর রাত কাটাচ্ছেন অনেকে।

যমুনা নদীর পাশাপাশি জেলার ইছামতী, হুরাসাগর, বড়াল, গুমানী, করতোয়া, দুর্গাদহ, বিল সূর্যিয়া নদীতে পানি ঢুকে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার ৩৯০টি স্কুলে বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ২০টি স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ছয়টি স্কুল নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

আর যমুনা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌহালী উপজেলার অ্যাওয়াজী কাঁঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদাশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌবারিয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলজলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলকুচি উপজেলার রতনকান্দি সোহাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সিরাজগঞ্জ সদরে বেতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ ছাড়া বেলকুচি উপজেলার চরবেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেহেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহজাদপুর উপজেলার বাঐখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের মুখে রয়েছে।

বন্যায় জেলার ৩৯টি গ্রামের এক হাজার ১২৪ পরিবার সম্পূর্ণ এবং ৭৮ হাজার ৬৯৮ পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার আশ্রয় নিয়েছে ১৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বাঁধ ও উঁচু স্থানে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষরা পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আর দু-একদিন গেলেই মানুষ ঘরে ফিরতে পারবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, এরই মধ্যে ৩৯৮.৩০ টন জিআর চাল, পাঁচ লাখ টাকা, তিন হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১১৫টি তাঁবু বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০১.৭০০ টন জিআর চাল, তিন লাখ টাকা, ৩৮৫ পিস তাঁবু ও ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।