বৃহস্পতিবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

নাতিকে বিক্রির অভিযোগে নানী গ্রেপ্তার

মুক্তখবর :
জুলাই ২৩, ২০১৯
news-image

খন্দকার শাহিন: নরসিংদীর পলাশে সাড়ে তিন বছরের নাতিন হারানোর নাটক সাজিয়ে ১২ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে শিশুটির নানীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে গাজীপুরের কাপাসিয়ার দক্ষিণগাঁও গ্রাম থেকে শিশু তাওহিদকে উদ্ধার করে পলাশ থানা পুলিশ। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাতে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচর পাড়া নামক গ্রামের নান্নু মিয়ার মেয়ে রেক্সোনা বেগম তিন মাস আগে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামের হতদরিদ্র আলাউদ্দিনের কাছ থেকে তাওহিদ নামের ওই শিশুটিকে পালক আনে। গত ঈদুল ফিতরের ১০ দিন পর রেক্সোনা তার পালক পুত্র শিশু তাওহিদকে মা-বাবার (নানা-নানি) কাছে রেখে সাতক্ষীরায় তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এরপর শিশুটিকে রেক্সোনার মা-বাবা লালন-পালন করতে থাকেন। গত রোববার সন্ধ্যায় রেক্সোনার বাবা নান্নু মিয়া পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, শিশু তাওহিদকে রোববার বিকেল থেকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার দিনব্যাপী এলাকা জুড়ে শিশু তাওহিদের সন্ধান চেয়ে মাইকিং করানো হয়। সাধারণ ডায়েরী করার পর থানার এসআই সুমন মিয়া শিশু তাওহিদ হারানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামেন। তদন্তকালে রেক্সোনার মা রানু বেগম (৫২)কে সন্দেহ হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর রানু বেগম তার নাতী শিশু তাওহিদকে ১২ হাজার টাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার দক্ষিণগাঁও গ্রামের নিঃসন্তান বাবুল মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। মঙ্গলবার সকালে পলাশ থানা পুলিশ কাপাসিয়া থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক রানু বেগম জানায়, লালন পালনের অনিহা থেকেই শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়া হয়। আমরা শিশু তাওহিদকে উদ্ধার করেছি এবং অভিযুক্ত রানু বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।