রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

ভয়াবহ রূপে ডেঙ্গু, ছয় মাসে আক্রান্ত ৭ হাজারের বেশি

মুক্তখবর :
জুলাই ২৩, ২০১৯
news-image

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে সাত হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি। এদিকে, হবিগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. শাহাদত হোসেন (৫৩) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার রাত ১২টায় মারা যান। তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই তোলপাড় শুরু হয়েছে।হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ঝালকাঠি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থেকে পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জে জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন ডা. শাহাদত। ঢাকায় থাকা পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে গত ২০ জুলাই জ্বর নিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন তিনি।শাহ আলম আরো জানান, ওই দিন দুপুরে জ্বর বেড়ে গেলে তাঁকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় পাঠান এবং রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।এ নিয়ে সরকারি হিসাবমতে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়াল।শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪০৩ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খোদ ঢাকাতেই ৩৯৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনায় দুজন ভর্তি হয়েছে। আর ঢাকায় হেমোরজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন দুজন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৩, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪৫, বারডেম হাসপাতালে ৮, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৫, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮, পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে পাঁচ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯ এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ১২৩ জন ভর্তি হয়েছেন।ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সাত হাজার ৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগে এ সংখ্যা ২৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগী চট্টগ্রামে আটজন ও খুলনায় ৩৭ জন।তবে আশার কথা হলো, এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫০৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সরকারি হিসাবমতে এখনো এক হাজার ৬৬৫ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।