বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

ময়মনসিংহ সদরে ব্রহ্মপুত্র নদের বেরিবাধ ভেঙ্গে ৮টি গ্রাম প্লাবিত ॥ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মুক্তখবর :
জুলাই ২৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯ (ময়মনসিংহ প্রতিনিধি) : পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির চাপ বেশি থাকায় প্রায় ৭০ মিটার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৮টি গ্রামের সহ¯্রাাধিক ঘরবাড়ি। এতে ৩ হাজার ২’শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বুধবার (২৪ জুলাই) সকালের দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি আকস্মিক ভেঙ্গে যায়। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর, চরবিনপাড়া, চর জেলাখানাচর, দূর্গাপুর, কোনাপাড়া, বারেরচর, সিরতা, চরসিরতা গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে করে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কারো কারো ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।  প্রায় ১৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল ময়মনসিংহ শহর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এরপর আর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ভেঙে গেছে বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার। এতে মাছের খামার, বীজ তলা ও শাক সবজ্বির মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন। ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গালিভ খান জানান, এরইমধ্যে বিকেল থেকে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন বাঁধটি সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে।  স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০০১ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরে আর বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় বাঁধটি সংস্কারে কোনো তৎপরতা ছিল না।  বাঁধ ভাঙার কারণ সম্পর্কে জানিয়ে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির চাপ বেশি থাকায় বাঁধের পাড়ে লাগানো গাছের শিকড় দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৭০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। এরইমধ্যে বাঁধটি মেরামতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রনয়নের কাজ শুরু করেছি। জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ২লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১০৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।