বৃহস্পতিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

খুলনায় ডেঙ্গুতে স্কুলছাত্রসহ ২ জনের মৃত্যু

মুক্তখবর :
আগস্ট ৪, ২০১৯
news-image
ঢাকা, রোববার, ০৪ আগষ্ট ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি): ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় এক স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন– খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও রূপসা উপজেলার খাজাডাঙ্গা গ্রামের বাবুল শেখের  ছেলে কাজদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মনজুর শেখ। এদের মধ্যে মর্জিনা বেগম শনিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মনজুর শেখ রোববার ভোরে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতিম দেবনাথ জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু রোগী মর্জিনা বেগম মারা যান। সপ্তাহখানেক আগে তিনি লিভারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এরপর খুলনার বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে শনিবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনন্দ মোহন সাহা জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মনজুর শেখকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে  তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, মনজুর শেখ সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় যায়নি। সে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।  সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। সরকারি হিসাবে শনিবারও এক হাজার ৬৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ হিসাবে শনিবার প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলতি বছরে ২২ হাজার ৯১৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় হাজার ৮৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ১৬ হাজার ৪৩ জন। ঢাকায় ১৮ হাজার ১৪ জন এবং ঢাকার বাইরে চার হাজার ৯০৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। তালিকা থেকে দেখা যায়, ঢাকার বাইরেও রোগী বাড়ছে।  রাজধানী ৪৯টি সরকারি-বেসরকারি ও ঢাকার বাইরে শুধু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্তের এই সংখ্যা নিরূপণ করেছে। এর বাইরে কয়েক হাজার বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে যেসব রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, তারা হিসাবের আওতায় আসছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী হিসাবের বাইরে থেকে গেছে।