মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

কাপাসিয়ায় ঈদুল আজহাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামাররা

মুক্তখবর :
আগস্ট ১০, ২০১৯
news-image

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ১দিন পরেই উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু ক্রয়ের সাথে পশু কোরবানীর কাজে ব্যবহৃত দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ সরঞ্জাম ক্রয়ও করছেন কোরবানী দানকারী মানুষ।

পশু কর্তণের এসব সরঞ্জামাদি যোগান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা কামাররা। কামারপাড়ায় এখন লোহা হাতুড়ির টুং টাং শব্দ। কামারদের হাতের সাহায্য কৃত্রিম বাতাসের তালে তারা পুড়ছেন কয়লা, জ্বালাচ্ছেন লোহা। সেই লোহাকে হাতুরী পেটা করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরী করছেন নানা প্রকৃতির ছুরি-চাকু-দা। দিনে ও রাত জেগে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কামারপাড়ায় দা-ছুরি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকু প্রতি পিছ ৫০-১০০ টাকা। দা ৪০০-৫০০ টাকা। চাপাতি ৩০০-৪০০ টাকা। বটি ৩০০- ৫০০। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কাপাসিয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন কামাররা।

কারিগর গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে এ ঈদ এলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সকাল ৯ টা থেকে রাত ১২ টা, ১ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হয়। ক্রেতাদেরও কমতি নেই। একটু বেশি আয়ের উদ্দেশ্যে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয় আমাদের’।

কারিগর সুনীল, নয়ন মন্ডল বলেন ঈদ সামনে এলে আমরা ব্যস্ত থাকি। কিন্তু ঈদ ছাড়া আমাদের কাজ নেই বলেই চলে। তাছারা এ পেশার দোকানে কাজের লোক পাওয়া যায় না। সংসার চালাতে ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে হিমসিম খেতে হয়।

গরু জবাইয়ের চাকু কিনতে আসা এমরান হোসেন, শামীম সিকদার বলেন, ‘বাড়িতে থাকা চাকুগুলোতে মরিচা পড়ে গেছে। ওগুলো দিয়ে মাংস কাটাকাটি করতে অসুবিধা হবে। তাই নতুন দা-চাকু কিনতে আসছি। তবে অন্য সময়ের তুলনায় ঐসবের দাম একটু বেশি রাখছে কামাররা’।

শিক্ষক শোয়েব সিকদার বলেন চাপাতি, চাকু ছুরি, বটি মেরামত করতে ১ হাজার টাকা লেগেছে মনে হয় আগের তুলনায় চেয়ে বেশি।