বুধবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

চার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো চারজনের মৃত্যু

মুক্তখবর :
আগস্ট ১৯, ২০১৯
news-image

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : ময়মনসিংহ, খুলনা, ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এসব হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় আনোয়ার হোসেনের (৪০)। আজ সোমবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিজানুর রহমানের (৪০)।

অন্যদিকে, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে মসজিদের এক ইমাম মারা যান। এ ছাড়া গতকাল রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাসেল মিয়া নামে কিশোরগঞ্জের এক বাসিন্দা।

ময়মনসিংহ থেকে প্রতিনিধি আইয়ুব আলী জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এ বি এম সামসুজ্জোহা ডেঙ্গু আক্রান্ত আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আনোয়ার হোসেন শরীরে জ্বর নিয়ে গতকাল বিকেলেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।’

নিহত আনোয়ার নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আবদুল লতিফের ছেলে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ নিয়ে তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন বলেও জানিয়েছেন এ বি এম সামসুজ্জোহা।

খুলনা থেকে প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, খুমেক হাসপাতালের আ‌বা‌সিক ফি‌জি‌শিয়ান (আরপি) ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ডেঙ্গু আক্রান্ত মিজানুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার খুমেকের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হ‌য়ে‌ছি‌লেন মিজানুর রহমান। তিনি ঢাকা থেকে আসেননি। এ এলাকাতেই তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন।’

নিহত মিজানুর রহমান রূপসা উপজেলার খাজাডাঙ্গা গ্রামের মৃত আখের আলীর ছেলে। তিনি একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, এ পযর্ন্ত খুলনায় মোট ৫৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদপুর থেকে প্রতিনিধি সঞ্জিব দাস জানিয়েছেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফমেক হাসপাতালে ভর্তি হন দেলোয়ার হোসেন। পড়ে আজ সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। সরকারি হিসাব মতে, ফমেক হাসপাতালে এ পর্যন্ত ছয়জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো।

ফমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দেলোয়ার ফরিদপুরের গোলডাঙ্গী গ্রামের সেক শফিউদ্দিনের ছেলে। শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি। এ সূত্রে শহরেই বাস করতেন তিনি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৪৬ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো করা হয়েছে ১৬০ জনকে। এর মধ্যে ফমেক হাসপাতালেই গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন।

এ নিয়ে গত ২০ জুলাই থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট এক হাজার ২২৪ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭১২ জন।

কিশোরগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি মারুফ আহমেদ জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, গত ১৫ আগস্ট ক্লিনিকে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন রাসেল। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দুপুরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত রাসেল মিয়া পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকি গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি রাজধানীর কেরানীগঞ্জে দর্জির কাজ করতেন। দুটি সন্তান রয়েছে তাঁর।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ১১১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবমিলিয়ে জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৩ জনে। তাঁদের মধ্যে ১২০ জন রোগীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, এই হাসপাতালে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১০ জন নতুন রোগী ভর্তিসহ মোট ৫৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. খালেকুল ইসলাম জানান, এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন নতুন রোগী ভর্তিসহ ২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি রোগীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।