শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর আজ

মুক্তখবর :
আগস্ট ২৪, ২০১৯
news-image

মোঃ আরিফুল ইসলাম:
আজ ২৪ আগস্ট ২০১৯, গৃহকর্মী ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর। ইয়াসমিনের স্মরণে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘কর্মজীবী নারী’ গতকাল ২৩ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নারীশ্রমিক জমায়েতের আয়োজন করে। ‘ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর: ধর্ষণ-নিপীড়ন-সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বত্র সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তুলি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারীশ্রমিক জমায়েতে ‘কর্মজীবী নারী’ নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সমাবেশে কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আক্তার এমপি। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গার্হস্থ্য নারীশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আক্তার, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি শিরীন সিকদার, গার্মেন্টস নেত্রী শেখ শাহনাজ প্রমুখ। কর্মজীবী নারী’র সমন্বয়ক রাজীব আহমেদ এর সঞ্চালনায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে শিরীন আখতার এমপি বলেন, ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর পরও একই ঘটনা এখনও চলছে। আজকে দুই থেকে সাত বছরের শিশু ধর্ষিত হচ্ছে। এরা কেমন পুরুষ! এদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ গড়ে তুলতে হবে। সেই সাথে নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য নতুন আইন করতে হবে। আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান আপনারা কোন অপরাধীর পক্ষে দাঁড়াবেন না। সেইসাথে এমন একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যেন শিশুরা একা স্কুলে যেতে পারে, খেলতে পারে, একা নারীরা চলাফেরা করতে পারে। তিনি নারীসমাজের প্রতি রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এছাড়া অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইয়াসমিন হত্যার ২৪ বছর হলো কিন্তু নারী নির্যাতন বন্ধ তো হয়নি ছোট থেকে বড় সকল বয়সের মেয়ে শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ঘৃণ্য অপরাধীরা অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার জন্য ধর্ষণের পর হত্যাও করছে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, খেটে-খাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যেই স্বপ্ন নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেখানে আমরা বার বার হোঁচট খাচ্ছি। একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে ! ঘুরে-ফিরে একই প্রশ্ন বার বার নির্যাতন ও সহিংসতা কেন কমছে না, কোথায় আমাদের গলদ ? বর্তমান সময়ের রিফাত হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী মিন্নিকে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে কেন ? নারী বলেই কি মিন্নির প্রতি অমানবিকতা? ইয়াসমিনের হত্যাকারীদের ফাঁসি আমাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বক্তারা সমাবেশ থেকে প্রতিটি নির্যাতনের বিচার দাবি করেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সেই সাথে প্রশাসনকে নারী নির্যাতন বন্ধে এগিয়ে আসা এবং দায়িত্ব পালনে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।