বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

জয়পুরহাটে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
news-image

মতলুব হোসেন:
জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর হাফেজিয়া মাদ্রসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই মাদ্রসার তৃতীয় শ্রেনির এক ছাত্রকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিক্ষক মাদ্রাসা বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর এলাকার এই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত ১৪/১৫ জন শিশু। এসব শিশুদের সবাই জয়পুরহাট জেলা শহর সহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এই আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষক আইয়ুব আলী পাশর্^বর্তী নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার কামিয়া ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। শিক্ষক আইয়ুব আলী প্রতি রাতে শিক্ষার্থীদের আরবী শেখাতেন। পরে শোবার সময় তার বিছানায় প্রায় প্রতি রাতে এক এক জন করে শিশুকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা শহরের মাদারগঞ্জ এলাকার দরিদ্র ভ্যান চালকের শিশু পুত্রকে ভয় দেখিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এমতাবস্থায় গুরুতর অসুস্থ শিশুটি পালিয়ে বাড়ি এসে ঘটনাটি মা বাবাকে বলে দিলে তারা ওই শিশুকে গত রোববার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মুবিনুল ইসলাম মুবিন জানান, গত রোববার দুপুরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ‘শিশুটির মলদ্বারে ক্ষত রয়েছে এবং এটি যে বিকৃত যৌন নির্যাতন এতে কোন সন্দেহ নাই’ । ধর্মীয় শিক্ষকের এমন কূকীর্তি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ধিক্কার জানাতে। তারা শিক্ষক আইয়ুব আলীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন। আরাম নগর এলাকার সাবু ইসলাম, সোহাগ হোসেন সহ অন্যান্যরা জানান, এমন বিকৃত যৌন ক্ষুদার মাত্র দু’ চার জন ধর্মীয় শিক্ষকের কারনে আলেম সমাজ বিব্রত বোধ করছেন। এই শিক্ষকের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার করা হোক এমন দাবী করেন এলাকাবাসী। জয়পুরহাট সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রায়হান হোসেন জানান, এ ব্যাপারে অসুস্থ শিশুটির বাবা জয়পুরহাট সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটন করে। তবে আসামী পলাতক থাকায় তাকে এক্ষুনি গ্রেফতার করা না গেলেও যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।