বৃহস্পতিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মানকরছেন মোহাম্মদপুরের শাড়া বিল্ডাস

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯
news-image

শিমুলি ইসলাম নীলু : রাজউকের শর্ত ভঙ্গ করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ“রাজউক” মহাখালি জোন ৩ এর আওতাধীন মোহাম্মদপুরস্থ, বাসা নং-৪৪/বি, কাদেরাবাদ হাউজিং এষ্টেট লিঃ কাটাশুর তিন রাস্তার মোড়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এর সাড়া বিল্ডার্স লিঃ নামক ডেভোলপার্স কোম্পানীর এম ডি হাসান মজুমদার। আবাসিক ভাবে ১০ তলা ভবন নির্মানের অনুমোদন নিয়ে ১০ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলমান রেখেছেন। অথচ ভবন নির্মানের জন্য রাজউক থেকে নকশার অনুমোদনে যে ১৪টি শর্ত রয়েছে তা অমান্য করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মান করছেন এই ডেভোলপার্স কোম্পানীর এমডি হাসান মজুমদার। রাজউকের নকশার শর্ত না মেনে নিজেদের ইচ্ছেমত ভবনের দক্ষিন পাশে ৪/৫ ফিট, উত্তরে ১০/১১ ফিট, পূর্বে-৪/৫ ফিট,পশ্চিমে ৩/৪ ফিট ডেভিয়েশন করে চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন নির্মান কাজ, যা স্পষ্ট রাজউকের নকশার বহির্ভূত। রাজউকের ১৪টি শর্তের মধ্যে প্রথম হলো ভবন নির্মানের সময় অবশ্যই তথ্য সম্বলিত সাইনর্বোড রাখতে হবে, অনুমোদনের সকল বিষয়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে এবং জনসাধারনের জন্য সেফটি নেট থাকতে হবে। এই কোম্পানী রাজউকের আইনের তোয়াক্কা না করে নকশা অনুমোদনের শর্তসমুহ সু-পরিকল্পিতভাবে অমান্য করেছেন, এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এসব চাঞ্চচল্যকর তথ্য। আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ইমারত নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন প্রয়োজন। অনেকের নকশার অনুমোদন থাকলেও নকশার বিচ্যুতি করে নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের নির্দেশনা মানছেন না মোহাম্মপুরের তিন রাস্তার মোড় এলাকার সাড়া বিল্ডার্স লিঃ কোম্পানীসহ অন্যান্য প্লট মালিকরা। প্লট মালিকরা রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের আইন অনুযায়ী টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে রাজউক উপযুক্ত এলাকাগুলোতে নকশা অনুমোদনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বাড়ির মালিক নকশা থাকলেও সে অনুসারে ভবন নির্মান না করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মোহম্মদপুর, কাটাশুর তিন রাস্তার মোড় এর সাড়া বিল্ডার্স লিঃ কোম্পানী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, ডেভিয়েশন করে নকশার বিচ্যুতি করে, সেফটিনেট বিহীন ভবন নির্মানের কারনে যেকোন সময় রানা প্লাজার মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ও আমাদের দেখামতে উক্তভবনটি সম্পুর্ন ঝুকিপূর্ন। এ ভবনেও বনানীর এফ আর টাওয়ারের মত দূর্ঘটনা ঘটলে ভবনের ভিতর আটকে পড়া কাউকে কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হবেনা, কারন বলেন তারা এত বড় ভবন নির্মাণের সময় চতুর পাশে যে পরিমান জায়গা ছাড়ার কথা ছিল তিনি সে পরিমান জায়গা ছাড়েননি। তারা আরো বলেন রাজউক বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে অভিযান পরিচালনা করে এরকম অনেক ক্ষমতাশীলদের ভবন ভেজ্ঞে গুড়িয়ে দিয়েছেন, তাই এ এলাকাতেও সে রকম অভিযান করা উচিত বলে দাবী করেন তারা। এ বিষয়ে সাড়া বিল্ডার্স লিঃ কোম্পানীর নির্মীতব্য ভবনে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে চাইলে কোম্পানীর সাইট ইঞ্জিনিয়ার রানা বলেন রাজউক থেকে ইমারত পরিদর্শক বেশ কয়েকবার এসেছেন আমরা তাদের সাথে নিকোশিয়েট করে নিয়েছি। এলাকার অধিকাংশ ভবন মালিকরাই এ রকমভাবে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করেন। তার বক্ত্যবে এলাকার জনমনে প্রশ্ন জেগে উঠেছে জোর যার মুল্লুক তার ও টাকার জোরে সরকারকেও তোয়াক্কা করছেন না এই কোম্পানী। যার কারনে তথ্য সাইনর্বোডও ঝুলাননি, সেফটিনেটও ব্যবহার করিনি। এ বিষয়ে রাজউক মহাখালি জোন ৩ এর দায়িত্বে নিয়জিত অথরাইজ্ড অফিসার দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন, রাজউকের নকশার বিচ্যুতি করে এবং নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে রাজউকের আইন অমান্য করে ভবন নির্মান করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।