বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ফায়দাবাদে অবৈধভাবে নির্মিতহচ্ছে একাধিক বহুতল ভবন

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯
news-image

এইচ এম আমিনুল ইসলাম আমান:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক উত্তরা জোন-২ এর আওতাধীন দক্ষিণখান থানাধীন, ফায়দাবাদ মৌজাস্থ, ফায়দাবাদ প্রধান সড়ক,আর্ক হাসপাতাল সংলগ্ন পশ্চিমপাশের গলি দিয়ে উত্তরদিকে। রাজউকের নির্মান অনুমোদন স্বারক নং-২৫,৩৯,০০০০,১০৮,৩৩, ০৪৮,১৬,১৩১স্থাঃ, সি এস দাগ নং- ৩২৫, আর এস দাগ নং-৯৩২ এবং ২০৭ নং প্লটের উপর রাজউক থেকে আবাসিক ভাবে অনুমোদিত বেজমেন্ট ব্যতিত ৮ তলা ভবনের ৮ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সর্ম্পূন্ন করেছেন। রাজউকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নকশার বিচ্যুতি করে নির্মীতব্য ভবনের সামনের রাস্তাটি ডেভের নকশা অনুযায়ী ৪০ ফিট অথচ এই ভবন মালিক সরকারী রাস্তা প্রায় ১০/১২ফিট দখল করে ৮ তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে, প্রতিটি ফ্লোরের ছাদের কার্নিশ ভেঙ্গে ছাদ থেকে লোহার রড় নতুন করে ওয়েলডিং মেশিনের মাধ্যমে জোড়া লাগিয়ে ভবনের পশ্চিম পাশে প্রায় ৫/৬ ফিট, উত্তরে ৫/৬ ফিট ডেভিয়েশন করে সু-কৌশলে দ্রুত-গতিতে নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন ভবন মালিক মেজবাহ উদ্দিনগং। নির্মীতব্য ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছেন। উক্ত ভবনের সামনে প্রধান সড়কে শুধু একটি বাড়ি নয় আরো অনেকেই রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে চলেছেন যেমন, এ জেড এম শাহাদাত উল্লাহ’র একটি ৯ তলা ভবন নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। যার স্বারক নং-রাজউক/২৫,৩৯,০০০০,০৯০,৩৩,৩৪৪,১৮,৩০০ স্থাঃ তারিখ ২৭/০৯/১৮, জমির সি,এস, দাগ নংঃ ৩২৫, আর,এস, দাগ নং ৯১৪, মৌজাঃ ফায়দাবাদ, ভবন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান-ফ্রেস হোম লিঃ। ৪তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলমান, ভবনের সামনে তথা পশ্চিম পাশে ৫/৬ফিট, পিছনে তথা পূর্ব পাশে ৫/৬ফিট ডেভিয়েশন করেছেন এবং ভবন নির্মাণের সময় জন সাধারনের নিরাপত্তার জন্য সেফটি নেট ব্যবহার না করেই ভবন নির্মাণ করছেন। এতে করে যে কোন সময়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাইদ তোফায়েল আহম্মেদ গংদের বাড়ি নং- ৮১, ব্লক নং-এ, ফায়দাবাদ প্রধান সড়ক, দক্ষিনখান। অনুমোদন স্বারক নং- ২৫,৩৯,০০০০,০৯০, ৩৩,১৮০.১৭.৪৬৬স্থাঃ, বেইজমেন্ট সংখ্যা-১, বেজমেন্ট ব্যতিত ১০ তলা আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ ছলমান রয়েছে। এরই পিছনে বাড়ি নং ৮১, সি.এস, দাগ নং-৩২৫ আর,এস,দাগ নং-৯২৬, নির্মাণ অনুমোদন স্বারক নং-৩৩.৭০.১৭.২৭৭, ভবন মালিক মোঃ হেলাল উদ্দিন। প্লট নং-৬৭২,সি,এস,দাগ নং-৬৭২ (অংশ) আর,এস,দাগ নং-২১৯৮(অংশ) ভাই ভাই মার্কেট রোড়, চালাবন, ভবন মালিক ঃ সাহানারা বেগম, ০৬ তলা আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে নিচ তলায় প্রান এর গোডাউন, এবং সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন-২য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ তলায় ব্যংক, বীমা, অফিস, শো-রুম গোডাউন ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া হবে। ভবন নির্মানের অনুমোদিত নক্সার মেয়াদ রয়েছে ৩০/১২/২০১৯ ইং পর্যন্ত, ভবন নির্মাণ অনুমোদন স্বারক নং-রাজউক/নঃঅঃঅঃ}/জোন-২/৩-সি-২-৫৮/১৬/২১৫স্থাঃ, তারিখ-১৩/৪/২০১৬ইং। মোঃ আলহাজ¦ হিরন মিয়া ও আলহাজ¦ রুনা লাইলা, মৌজা-পুরাকৌর, দক্ষিনখান, ঢাকার, সি.এস দাগ নং-১১৯(অংশ), আর এস দাগ নং-১৩২(অংশ). নির্মাণ অনুমোদন স্বারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০৯০. ৩৩.৯৭.১৭.৩৩৯ স্থাঃ। ভবনের সামনের সরকারী রাস্তা দখল সহ, পশ্চিম পাশে ৬/৭ ফিট, পূর্ব পাশে ৩/৪ফিট ডেভিয়েশন ও রাজউকের নিয়ম অমান্য করে ভবন নির্মাণ। মোঃ শহিদুল ইসলামগং, ফায়দাবাদ মৌজাস্থ, টিআইসি কলোণী রোড় এর সি,এস দাগ নং- ৪৭৬(অংশ), আর এস দাগ নং-১০৫৯(অংশ), বেজমেন্ট ব্যতিত ১০ তলা আবাসিক ভবনের নির্মাণ অনুমোদন স্বারক নং-২৫.২৯.০০০০.০৯০.৩৩.১৭৩.১৭.৩৭১স্থাঃ রাজউকের নক্সার ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের আইন মানছে না উত্তরা জোন ২এর আওতাধীন দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকার বিভিন্ন প্লট মালিকরা। প্লট মালিকরা রাজউকের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করছে। এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যা টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ আইন অবমাননার শামিল। এ সমস্ত ভবনের কারনে যে কোন সময় এলাকায় মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয় বনানী ১৭ নং রোড়ের মত এখানেও যেকোন সময় এ ভবন ধসে পড়তে পারে তাই ভবনের আশে পাশের মানুষ অনিশ্চিয়তায় ভুগছেন এবং পুরো এলাকাতে আতংঙ্ক বিরাজ করছেন। এলাকাবাসী জানান রাজউকের মাঠ পর্যায়ে ইমারত পরিদর্শকরা যদি ঠিক মত কাজ করতেন তা হলে এ এলাকায় একই রোড়ে এতগুলো ভবন রাজউকের নিয়মবর্হিভূতভাবে হতো না। এলাকার সচেতন জনগন এ ভবনগুলোর বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে রাজউকের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে রাজউকের উত্তরা জোন ২ এর দায়িত্বে নিয়োজিত অথরাইজড অফিসার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্ত খবরকে বলেন বর্তমানে রাজউক কর্তৃপক্ষ খুব হার্ডলাইনে রয়েছেন যে কোন ভবন মালিক রাজউকের নিয়ম অমান্য করে ভবন নির্মাণ করলে রাজউক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। রাজউক নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকাগুলোতে কোন ভবন নির্মান করতে হলে অবশ্যই রাজউকের নিয়মনীতিমালা মেনে ভবন নির্মান করতে হবে ।