বৃহস্পতিবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বামনা-বদনীখালী খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েে অভিযোগ

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯
news-image

ওবায়দুল কবির আকন্দ দুলাল: বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদীতে যাত্রীদের পারাপারে গুরুত্বপূর্ন দুটি খেয়ায় বাংলা বছর শুরুর চার মাস পরে বরগুনা জেলা পরিষদ কর্তৃক অতিরিক্ত ভাড়াবৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাড়াবৃদ্ধির পরেও বেধে দেওয়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে বামনা-বদনীখালী খোয়াঘাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনই ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় ইজারাদারদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন অনেক যাত্রী।
জানাগেছে, চলতি ১৪২৬ বাংলা সনের বৈশাখ মাসের শুরু থেকে বামনা খেয়া ঘাটের ইজারা পায় হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। জেলা পরিষদের খেয়াঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিন জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় চলতি বছরে ভাড়া উত্তোলনের অনুমোতি পান তিনি। শুরুতে ১০টাকা করে জন প্রতি ভাড়া উত্তোলন করা হতো। হঠ্যাৎ গত দুই মাস ধরে এই উপজেলার সকল খেয়াঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি করে ১৫ টাকা করা হয়। এতোদিন কোন খেয়াঘাটে জেলা পরিষদের কোন ভাড়ার তালিকা টানানো না থাকলেও ভাড়া বৃদ্ধির পর প্রতিটি খাটে বড় করে সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে বামনা-বদনীখালী খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বরগুনা জেলা পরিষদ কর্তৃক একটি সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে মানুষ জনপ্রতি ১৫ টাকা, বাইসাইকেল প্রকিটি( একজন আরোহীসহ) ১৮ টাকা, মটরসাইকেল প্রতিটি ( একজন আরোহীসহ) ৩০ টাকা, রিক্সা/ভ্যান/ ঠেলাগাড়ী প্রতিটি ১৫ টাকা, গরু/মহিষ একবছরের উপরে (প্রতিটি) ২৫ টাকা, গরু/মহিষ একবছরের নিচে (প্রতিটি) ১৫ টাকা, ছাগল/ভেড়া ইত্যাদি প্রতিটি ০৬ টাকা, মালামাল ১৫ কেজির উপরে প্রতি কেজি ৩০ পয়সা, সিমেন্ট/সারের/চালের বস্তা(৫০ কেজি পর্যন্ত) ০৬ টাকা, সিমেন্ট/সারের/চালের বস্তা(৫০ কেজির উপরে) ০৮ টাকা, আসবাবপত্র(পালংক/শোকেচ, ওয়ারড্রব) ইত্যাদি প্রতিটি ২২ টাকা, ঢেউটিন প্রতি বান্ডিল ১৫ টাকা ও হাস-মুরগী খাচা ভর্তি ১০ টাকা। অথচ একাধিক মটরসাইকেল সহ পারাপার করা যাত্রীরা অভিযোগ করেন সাইনবোর্ডে লেখা আছে মটরসাইকেল ও একজন আরোহীসহ ৩০ টাকা কিন্তু এখানে তাদের কাছে রাখছে ৪০ টাকা। এছারাও প্রতি বৃহস্পতিবার বেতাগী উপজেলার বিষখালীর তীরের বদনীখালী বন্দরে হাটের দিন। ওইদিন বদনীখালী বাজারে প্রচুর গরু বেচা কেনা চলে। ফলে এ খেয়া দিয়ে কয়েকশত গরু পারাপার হয়। প্রতিটি গরু পাড় হতে ২৫ টাকা জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারণ করে দিলেও এই খেয়াঘাটে পার হতে একশত থেকে দুই শত করে দিতে হয়। বামনা-বদনীখালী খেয়ায় প্রতি সপ্তাহে পারাপার করা যাত্রী মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব হাওলাদার জানায়, প্রতি সপ্তাহে তাকে এই খেয়া দিয়ে মটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হতে হয়। অথচ ভাড়ার তালিতায় ত্রিশ টাকা লেখা থাকলেও তারা নিচ্ছে চল্লিশ টাকা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে একজন ইজাদারের প্রতিনিধি তার সাথে বাক-বিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এব্যাপারে খেয়া ঘাটের চলতি বছরের ইজারাদার হাফিজুর রহমান বলেন, এই খেয়ায় নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে মটরসাইকেল ওঠানো-নামানোর জন্য মাঝিকে কেউ খুশি হয়ে ৫-১০ টাকাদিতে পারে। আমাদের ইজারা কর্তৃপক্ষের কেউ নিজেরা এই টাকা রাখে কিনা আমি খোজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
পটুয়াখালীর দুমকীর স্থানীয় কলেজে চাকুরী করা পিযুষ কান্তি বিশ্বান জানায়, এই ঘাটে জেটি আছে। সাইকেল ওঠানো নামানোর জন্য তেমন কষ্ট নয় অথচ মাঝিকে টাকা দেওয়ার দরকার হলে তারা নিজ হাতে মাঝিকে দিবো। তারা কেন ইজারাদারকে ওই টাকাদিবে? ওরা মাঝিকে কোন টাকাই দেয় নায়। মাঝিদের তারা মাসিক বেতনে রাখেছেন। বেতনের অতিরিক্ত একটি টাকাও তারা মাঝিকে দেয়না।
এই খাটের ট্রলার মাঝি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতি ট্রলারে প্রতিবার পাড় হতে যে টাকা কালেকশন হয় তার ছয় ভাগের এক ভাগ আমরা মাঝিরা পাই। তবে মটরসাইকেল আরোহীদের কাছ থেকে যে দশ টাকা বেশি নেওয়া হয়। তা আমাদের ওই ভাগের ভিতর ধরে দেয় কিনা আমরা জানিনা।
শুধু বামনা-বদনীখালী খেয়াই নয়, রামনা-ফুলঝুঁরি খেয়াঘাটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেখানে একটি মটরসাইকেলসহ একজন আরোহীর কাছ থেকে ৩৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে।
রামনা-ফুলঝুঁড়ি খেয়া ঘাটের ট্রলার চালক আ.জলিল জানায় জেলা পরিষদের নির্ধারিত মটরসাইকেলের ভাড়া পাঁচ টাকা বেশি নিচ্ছি। কারণ এই খেয়াঘাটে রামনার ওপাড়ে কোন জেটি না থাকায় অনেক কষ্টকরে মটরসাইকেল ওঠানো ও নামানো হয়। তাই আমরা পরিশ্রমিক হিসেবে এই পাঁচ টাকা বেশি নিচ্ছি।
তবে বছরের মাঝ সময়ে কেন জেলা পরিষদ ভাড়া বৃদ্ধি করলো এ নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন দেখাদিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদদের কর্মকর্তাদের অবৈধ সুবিধা দিয়ে বছরের মাঝখানে এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে সরকার তার পাওনা রাজস্ব হারাচ্ছেন। আর বামনা-বদনীখালী খেয়া ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তা সাধারণ যাত্রীদের কাছে অনেক বেশি।
রামনা-ফুলঝুড়ি খেয়াঘাটের ইজারাদার মো. নুর বাশার জানায়, প্রতি তিন বছর পরপর খেয়া ভাড়া বৃদ্ধি হয়। চলতি বাংলা বছরের শুরুতেই এইভাড়া বৃদ্ধির কথাছিলো। অফিসিয়াল ঝামেলার কারণে আমাদের চার মাস কমভাড়া নিয়ে যাত্রীদের পারাপাড় করানো হতো। এখন জেলা পরিষদ ভাড়া বাড়িয়েছে তাই আমরা যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা বেশী ভাড়া আদায় করছি। তবে কোন অতিরিক্ত ভাড়া এই খেয়ায় নেওয়া হচ্ছে না।
এছারাও অভিযোগ রয়েছে জেলা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী রাত দশটার পর্যন্ত পারাপার করার বিধান থাকলেও রাত সাড়ে সাতটার সময় উপজেলার দুটো খেয়াই তাদের যাত্রী পাড়াপার বন্ধ করে দেয়। ফলে জরুরী প্রয়োজনে যাত্রীদের পার হতে হলে তিনশত থেকে পাঁচশত টাকা দিয়ে রিজাভ ট্রলার ভাড়া করে পার হতে হয়।
এব্যাপারে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. ফরিদুল ইসলামের সাথে ফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিন বছর পর পর খেয়া ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। কোন খেয়া ঘাটে যাত্রী বা মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।