শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

মানবেতার জীবন যাপন করছেন পাকুন্দিয়ার শতবর্ষী আয়েশা খাতুন

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯
news-image

সংবাদ দাতাt কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের বানিপার্টা গ্রামের বিধবা শতবর্ষী আয়েশা খাতুন এবং তাঁরাই বড়মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত জাহানারা খাতুনের কপালে জোটেনি কোনও কার্ড। প্রতিবন্ধী দুই ছেলের নামে নেই কার্ড। অসহায় মা ও মেয়ে থাকছেন নানির বাড়িতে ছাপরি ঘরে তাও তুলে দিয়েছেন এলাকাবাসি। জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবেশিদের সাহায্য সহযোগিতায়। স্বজনরা জানান, আয়েশার ১৯৪০ সালে বিয়ে হয়েছিল ডিক্রিরচর গ্রামের খুরশিদ উদ্দিনের সাথে।১৯৬০ সালে এক দুর্ঘটনায় মারা যান খুরশিদ । স্বামীর মুত্যুর কয়েক বছর পড় দেবর সুরুজ মিয়ার সাথে পাড়ি জমান সহায় সম্বল বিক্রি করে রংপুরে। এ দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া দুই ছেলে অামিনুল হক ও মমিনুল হক এবং দুই মেয়ে জাহানারা খাতুনের বিয়ে হয় মফিজ উদ্দিনের সাথে কিছুদিন পর ভেঙ্গে যায় সংসার অপর মেয়ে হেনার বিয়ে কিছুদিন পড় মারা যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে দেশের অবস্তা করুন হওয়া ১৯৬৯ সালে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে অামিনুল হক, মমিনুল হক ও মেয়ে জাহানারাকে নিয়ে আয়েশা বাপের বাড়িতে ভাইয়ের ছেলে চাঁন মিয়ার ভিটায় দুচালা টিনের ঘর তোলেন। আয়েশা বড় মেয়ে জাহানারাকে নিয়ে থাকছেন সুখিয়া ইউনিয়নের বানিপার্টা গ্রামের সেই ঘরে। বড় ছেলে বিয়ে করে থাকছেন শশুর বাড়িতে আর ছোট ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাহাদিয়া গ্রামে ফুফুর বাড়িতে। মেয়ে জাহানারা খাতুন বলেন, মায়ের বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড নেই বয়স হওয়াতে আমারও নেই কাজ করার মতো শক্তি সংসারে আয় রোজগার করার মতো কেউ নেই। খুব কষ্টে চলছে সংসার মাকে নিয়ে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাহায্যে সহযোতায় কোন রকম বেঁচে আছি। মা এখন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন না কিন্তু সবই বোঝেন। কার্ডের জন্য মেম্বার চেয়ারম্যানের পেছনে অনেক ঘুরেও কাজ হয়নি। কোন সহায়তা বা ভাতা পেলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। এ ব্যাপারে সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ হামিদ টিটু বলেন, ‘আমি বৃদ্ধা আয়েশা ও তাঁর মেয়ের কাছে কার্ড করার জন্য কয়েকবার গিয়েছি। বিধবা বা বয়স্ক ভাতার জন্য তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়েছি। কিন্তু পরিচয়পত্র না দেওয়ায় আমি তাদের ভাতার কার্ড করে দিতে পারছি না। ‘এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া সমাজসেবা অফিসার রুহুল অামিন বলেন, আমাদের কাছে এরকম কোন নাম আসেনি আমাদের কাছে। যদি কোন ব্যাক্তি ৮০/ ৯০ বছর বয়স হয় তাহলে সমাজসেবা অফিস বয়স্ক ভাতা দিবে। আমি আয়শা ও তার মেয়ের বিষয়টা মাত্র জানলাম, সমাজসেবা অফিস উপজেলা প্রশানের সহযোগীতা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্তা গ্রহন করিবে।