শনিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণকরেছেন মিরপুরের বেনু

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
news-image

শিমুলী আক্তার নীলু: রাজউকের শর্ত ভঙ্গ ও নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক মহাখালি জোন ৩ এর আওতাধীন মিরপুর,কালসি রোড়-২ এর, ২/৯২/১-২/৯২/২ নং প্লটের উপর ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ করছেন প্রগেসিব সোসাইটির সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বেনু। ২/৯২/১-২/৯২/২নং প্লটের উপর রাজউক থেকে আবাসিক ভাবে ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে ৯ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলমান রেখেছেন ভবন মালিক মোঃ মোশারফ হোসেন বেনু। ভবন নির্মানের জন্য রাজউক থেকে নকশার অনুমোদনে যে ১৪টি শর্ত রয়েছে তা অমান্য করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মান করছেন ভবন মালিক। তিনি রাজউকের কোন শর্ত না মেনে নিজের ইচ্ছেমত ভবনের দক্ষিন পাশে ২/৩ ফিট, উত্তর পাশেও প্রায় ৫/৬ ফিট, পূর্ব ও পশ্চিমে প্রায় ৫/৬ফিট ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন যা রাজউকের ইমারত নির্মাণ আইনের সুস্পষ্ট লংঘন ও রাজউকের আইন বহির্ভূত। রাজউকের নকশার অনুমোদনের ১৪টি শর্তের মধ্যে জনসাধারনের সুবিধার্থে সেফটিনেট ব্যবহার করার কথা থাকলেও মিরপুর কালসি এলাকার রোড়-২ এর ভবন মালিক তা মানছেন না। রাজউকের আইনের তোয়াক্কা না করে নকশা অনুমোদনের শর্তসমুহ সুপরিকল্পিতভাবে অমান্য করা হয়েছে। এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনেকের নকশার অনুমোদন থাকলেও নকশার বিচ্যুতি করে নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউকের নির্দেশনা মানছেন না মিরপুরের প্রগেসিব সোসাইটির সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বেনুসহ অন্যান্য প্লট মালিকরা। প্লট মালিকেরা রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করছেন। টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে রাজউক উপযুক্ত এলাকাগুলোতে নকশা অনুমোদনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বাড়ির মালিক নকশা থাকলেও সে অনুসারে ভবন নির্মান না করে নকশার বিচ্যুতি করে ভবন নির্মাণ করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মিরপুেরর প্রগেসিব সোসাইটির সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বেনু । নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, ডেভিয়েশন করে নকশার বিচ্যুতি করে,সেফটিনেট বিহীন ভবন নির্মাণের কারনে যেকোন সময় রানা প্লাজার মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাছাড়া ভবন নির্মানের সময় যে পরিমান দূরত্ব বজায় রেখে ভবন নির্মাণ করার কথাছিল সে পরিমান জায়গা না ছেড়ে ভবন নির্মাণ করায় বনানীর ১৭ নং রোড়ের এফ আর টাওয়ারের মত এ ভবনে যদি কখনো কোন প্রকার দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে এখানেও মৃত্যুর বন্যা ভয়ে যাতে পারে। কিন্তু ভবন মালিক তার বাড়ি নির্মাণ করার সময় কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমত ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে করে বদনাম হচ্ছে সরকারের। তাই এখনি সময় এ সমস্ত ভবনের বা মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারের বা রাজউকের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ। তারা আরো বলেন রাজউক বিভিন্ন এলাকায় যে ভাবে অভিযান বা মোবাইল কোট পরিচালনা করে এরকম অনেক ক্ষমতাশীলদের ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন, তাই এ এলাকাতেও অতি সত্তর সে রকম অভিযান করা উচিত বলে দাবী করেন তারা। এ বিষয়ে নির্মীতব্য ভবনের মালিক প্রগেসিব সোসাইটির সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বেনুর মুঠোফেনে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি । তবে মালিক পক্ষের একজন প্রতিবেদকে বলেন পুরো এলাকাতে অনেকেই এভাবে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করছেন আমরাও তাদের মত করে করেছি। বাকি রাজউক দেখবেন। এ বিষয়ে রাজউক মহাখালি জোন ৩ এর দায়িত্বে নিয়জিত অথরাইজ্ড অফিসার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন, রাজউকের নকশার বিচ্যুতি করে নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করে থাকেন তাহলে রাজউক কর্তৃপক্ষ তাকে কখনো ছাড় দিবেন না, কেউই আইনের উর্দ্ধে নয় আইন সকলের জন্য সমান। সরকারের আইনকে সম্মান দেওয়া সকল সচেতন নাগরিকের কর্তব্য। রাজউকের আইন অমান্য করে ভবন নির্মান করার কারনে রাজউক তার ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ইনশাআল্লাহ।