শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

টি-টোয়েন্টি দলে নতুন চমক নাঈম শেখ ও আমিনুল

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
news-image

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (ক্রীড়া প্রতিবেদক) : আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ হারার পর পরিবর্তনের ছড়াছড়ি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশ দলে। চট্টগ্রাম পর্বের দুই ম্যাচের জন্য দলে নেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। প্রথমবার টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়াও দলে ফিরেছেন দুই পেসার রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম। বাঁহাতি ওপেনার নাঈম ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে এর মধ্যেই খেলেছেন বাংলাদেশে ‘এ’, ইমার্জিং দল ও বিসিবি একাদশে। সবচেয়ে বড় চমক বলা যায় অলরাউন্ডার আমিনুলকে।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও আমিনুল মূলত ছিলেন ব্যাটসম্যান, পাশাপাশি যিনি লেগ স্পিন করতে পারেন। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিকেএসপির হয়ে নজর কেড়েছিলেন মূলত ব্যাটিং দিয়েই। ৪৪০ রান করেছিলেন ৪০ গড়ে।

কিন্তু সম্প্রতি হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডে তার লেগ স্পিন দেখে মনে ধরে যায় সেখানকার কোচ সাইমন হেলমটের। নজরে ছিলেন জাতীয় নির্বাচকদেরও। কিছুদিন আগে খেলেছেন ‘এ’ দল ও ইমার্জিং দলে।

বাদ পড়াদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সৌম্য সরকার। না খেলেই বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান ও প্রথম ঘোষিত দলের চমক ইয়াসিন আরাফাত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হুট করেই দলে নেওয়া আবু হায়দারও বাদ না খেলেই।

সৌম্যর জায়গাতেই নেওয়া হয়েছে ২০ বছর বয়সী নাঈমকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি টি-টোয়েন্টিতে বিসিবি একাদশের হয়ে ১৪ বলে ২৩ রান করেছিলেন নাঈম। জুলাইয়ে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক দিনের ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১২৬।

শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজটি অবশ্য তার ভালো কাটেনি মোটেও। তবে তার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত দুই মৌসুমেই তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ২০১৭-১৮ মৌসুমে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড় ও ৮২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৫৫৬ রান। গত মৌসুমে একই ক্লাবের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে ৮০৭ রান করেন ৫৩.৮০ গড় ও ৯৪.৩৮ স্ট্রাইক রেটে।

আফগানিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে বিপক্ষে একদিনের ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ২০ ছুঁইছুঁই আমিনুলকে। ২২ রান করার পাশাপাশি নিয়েছিলেন ২ উইকেট। এরপর শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজে মূলত তাকে লেগ স্পিনার হিসেবেই খেলানো হয়। তিনটি একদিনের ম্যাচে নিয়েছিলেন তিন উইকেট।

শান্তর টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পাওয়াও খানিকটা বিস্ময়ের। বাংলাদেশের হয়ে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলে ভালো করতে না পারায় বাদ পড়েছেন। মূলত এই দুই সংস্করণের জন্যই এতদিন উপযুক্ত মনে করা হয়েছে তাকে। বিপিএল ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেও শান্তর রেকর্ড খুব উজ্জ্বল নয়। ৪০ ম্যাচে গড় ১৭.৬৬, ফিফটি ছুঁয়েছেন কেবল একবার।

অভিজ্ঞ পেসার রুবেল সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে। শফিউল টি-টোয়েন্টিতে শেষবার খেলেছেন ২০১৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।

বাদ পড়া সৌম্য ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে করেছেন ৪ ও ০। ৪৩ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে তার ফিফটি মোটে একটি, গড় ১৬.৭৯।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দুটি আগামী বুধবার ও শনিবার।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, নাজমুল হোসেন শান্ত।