শনিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অসস্তোষ, পুনঃনির্বাচনের দাবি

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
news-image

খন্দকার শাহিন: নরসিংদীর বীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ বিদ্যালয়ে নিয়ম, নীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া মতো নামসর্বস্ব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এ অবস্থায় পুনরায় তফসিল ঘোষনা করে নতুন কমিটি করার জন্য বিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনার, নরসিংদী জেলা/উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর সোমবার দুপুরে (১৬ সেপ্টেম্বর) লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও অভিভাবকবৃন্দ।  অভিযোগ উঠেছে এ বিদ্যালয়ে নির্বাচন ব্যতীত নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সূর্য্যকান্ত দাসকে সভাপতি ঘোষণা করে বিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। সূর্য্যকান্ত দাস একজন সৎ, সুশিক্ষিত ও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বটে। ইতোমধ্যে সূর্য্যকান্ত দাস নরসিংদী জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সহ প্রায় এক ডজনের উপরে সামাজিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন পদের অধিকারী। তিনি পদের ভার নিজেকে সামলাতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি এ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন, কিন্তু বিদ্যালয়ের কোন পরিবর্তন নাই। এবারও এ বিদ্যালয়ে নির্বাচন ছাড়া তাকে সভাপতি করায় ফুঁসে উঠেছে অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা ডেকে নিয়ে নয়, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ কমিটি চায়। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, এ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে পাঁচজন সভাপতি পদে প্রার্থী প্রত্যাশী হয়। তারা হলেন, খোকা মিয়া, রূকন মিয়া, আলমগীর হোসেন আলম, সোহরাব হোসেন ও মুক্তার হোসেন। কিন্তু কোন নির্বাচন না দিয়ে এবং প্রার্থীদের কাউকে না জানিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার নতুন কমিটি ঘোষণার খবর পাওয়া যায়। এ কমিটিতে প্রফেসর সূর্য্যকান্ত দাসকে সভাপতি করা হয়। এ নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাই তারা স্বচ্ছতা ও নীতিমালা মোতাবেক পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য বীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জানান। সভাপতি প্রার্থী আলমগীর হোসেন আলম বলেছেন, এ বিদ্যালয়ে কোন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়না। বিএনপি, জামাত-শিবিরের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান ও আলোচনা করা হয়। এমনকি এ বছর কোমলমতি শিশুদের বার্ষিক খেলাধুলার অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেনি। এছাড়া এভাবে হঠাৎ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সভাপতি নির্বাচিত করা হবে তা দুঃখজনক। তিনি এ বিদ্যালয়ে নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান। বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনের সভাপতি দুলাল মোল্লা জানিয়েন, আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য নিয়ে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে নির্বাচন দেয়ায় বিষয়টি এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এইচ.এম. জামেরী হাসান জানিয়েছেন, তিনি উল্লেখ্য বিষয়ে অবগত ও বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়ে দেয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে কারো আপত্তি না থাকলে নির্বাচন বিহীন কমিটি গঠন করা যায়। তবে সদর উপজেলা বীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পরিচালনা কমিটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।