রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বরিশালে ৩ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ও একটি বাস কাউন্টিার ভাঙচুর এবং ৩ কর্মচারীকে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ২ জনকে শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টার তান্ডবের পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ (কমিটি নেই) ক্যাম্পাসের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে। শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে কাউন্টার ভাঙচুর এবং মহাসড়ক অবরোধ করেছে বলে স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ শিফাত। তবে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের চাপে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তারা অবরোধ তুলে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশের এক কর্মকর্তা।
এদিকে শ্রমিক কার্যালয় ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের পর থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিকেলের পর মালিক-শ্রমিকরা পটুয়াখালী-কুয়াকাটাসহ দক্ষিণের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছেন রূপাতলী বাস মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন কালু। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বরিশাল থেকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রূপাতলী বাস টার্মিনালের গোল চত্ত্বরে সব সময় জানজট লেগেই থাকে। সম্প্রতি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান রূপাতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে জনস্বার্থে গোল চত্ত্বর সব সময় জানজট মুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।

রূপাতলী বাস মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মমিন উদ্দিন কালু জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ বাস্তবায়নে উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল হাসান বিকেল ৫টার দিকে গোল চত্ত্বর পরিদর্শন করেন। এ সময় একটি মাহেন্দ্র গোল চত্ত্বরে থাকায় সেটি সরাতে বলেন কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যরা। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতা শিফাতের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী লাঠিসোটা হাতে নিয়ে আকস্মিক টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের গ্লাস, আসবাবপত্র, বঙ্গবন্ধু ও সিটি মেয়রের ছবি ভাঙচুর করে। পরে তারা বাস মালিক সমিতি কার্যালয়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। সেখান থেকে বের হয়ে তারা রূপাতলী টার্মিনালে গোল চত্ত্বরের কাছে থাকা লেবুখালী কাউন্টার ভাঙচুর এবং কাউন্টারের কর্মচারী মো. শাহিন, আল-মামুন ও সালাম দেওয়ানকে বেদম মারধর করে। আহতদের মধ্যে ২ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কালু জানান, বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত ছাত্রদের ২ ঘণ্টার তান্ডবের সময় শ্রমিকরা কঠিন ধৈর্য্যের পরিচয় দেয়। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে শ্রমিকরা দক্ষিনের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখে। বিষয়টি সিটি মেয়রসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা বাস চলাচল থেকে বিরত থাকবে বলে জানান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক কালু। এ ঘটনার বিচার দাবিতে শ্রমিকরা টার্মিনালে বিক্ষোভ করে বলে তিনি জানান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা (কমিটি বিহীন) মহিউদ্দিন আহমেদ শিফাত বলেন, বাস মালিক সমিতি মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে চেক পোস্ট স্থাপন করে অটোরিক্সা সহ থ্রি-হুইলারে শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আগে ভোলা রাস্তার মোড়ে চেক পয়েন্ট ছিল, শিক্ষার্থীরা সেটি সরিয়ে দিয়েছে। এখন তারা রূপাতলী এলাকায় অবৈধ চেক পোস্ট বসিয়েছে। থ্রি-হুইলারে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তারা বাস দিয়ে ভয় দেখায়। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে বাস মালিক ও শ্রমিকরা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে একটি অফিস এবং কাউন্টার ভাঙচুর করেছে বলে স্বীকার করেন শিফাত। শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বলে ছাত্রলীগ নেতা শিফাত জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত মেট্রোপলিটন পুলশের ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে কোন ধরনের যানবাহন চলতে দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মালিক সমিতির নেতাদের ক্ষমা না চাওয়ার দাবি তুলেছে।

এদিকে মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, ছাত্ররা তাদের কাউন্টার-অফিস ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে মালিক সমিতির নেতারা। ছাত্রলীগকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি মেয়রের এপিএস হেমায়েত উদ্দিন সুমন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা নিরাব হোসেন টুটুলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান রূপাতলী টার্মিনালে ভাঙচুর ও মারধর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। তারা ওয়ার্কআউট করছেন। একদিকে ছাত্র, অন্যদিকে শ্রমিক, তাই বিষয়টি সতর্কতার সাথে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ কমিশনার জানান।

এদিকে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের (মেয়র) চাপে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয় বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহিম।