শনিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

রাজউককে তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণ করছেন নাখালপাড়ার আব্বাস!

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (শিমুলী আক্তার নীলু) : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক মহাখালী জোন ৪/১এর আওতাধীন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন পূর্ব নাখাল পাড়া ২নং গলির ৩০২/২ নং প্লটের উপর রাজউকের নিয়মনীতি ও নকশা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে নিজ ক্ষমতার দাপটে রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে আবাসিক ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন আব্বাস উদ্দিন। ৪ শতাংশ জমির উপর নির্মীতব্য ভবনের সামনে তথা পশ্চিম পাশের প্রধাণ সড়কটি ডেভের নকশা অনুযায়ী ৩০ ফিট প্রস্তাবিত রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে রাস্তাটি রয়েছে ১৬/১৮ ফিট, এর মধ্যে আব্বাস উদ্দিন সরকারী রাস্তা দখল করেছেন প্রায় ৬/৭ ফিট, তাছাড়াও রাজউকের আইন অনুযায়ী রাস্তার পশে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে জমির মালিককে ৬ফিট জায়গা ছাড়ার কথা থাকলেও সে জায়গা না ছেড়ে সরকারী রাস্তাসহ মোট ১২/১৩ফিট রাস্তার জায়গা দখল করেছেন। এছাড়াও নির্মীতব্য ভবনের দক্ষিনপাশে যে পরিমান জায়গা ছাড়ার কথা রয়েছে তিনি সে পরিমান জায়গা ছাড়েননি। ভবনের দক্ষিন পাশে ৩/৪ফিট, উত্তর পাশে ৬/৮ ফিট, পূর্ব পাশে ৭/৮ ফিট, পশ্চিম পাশে ৪/৫ফিট ও প্রথম ছাদের নিচে একস্ট্রা কলম দাঁড় করিয়ে জনসাধারনকে বুঝানোর চেষ্টা করেন তিনি কোন জায়গা বা সরকারী রাস্তা দখল করেননি। নির্মীতব্য ভবনে জনসাধারনের সুবিধার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে না সেফটি নেট। নেই কোন তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ডও। সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা তথ্য। রাজউকের নির্দেশনা মানছেনা তেজগাঁও থানাধীন নাখালপাড়া এলাকার বিভিন্ন প্লট মালিকরা। প্লট মালিকেরা রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মান করছে। এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে রাজউক উপর্যুক্ত এলাকাগুলোতে নকশা অনুমোদনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বাড়ির নকশা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই। ইমারত নির্মাণ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মানছেন না কোন নিয়ম কানুন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এ ভবনের মালিকপক্ষ রাজউক ও এলাকার সাধারন জনগনকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে, নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে, রাজউকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মানের কারনে যেকোন সময় রানা প্লাজার মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি বনানীর ১৭ নং রোড়ের এফ আর টাওয়ারের মত বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা রাজউক পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যে ভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকেন সেই রকম ভাবে যদি রাজউক এ ভবনটিকে ও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়, তা হলে এ এলাকার আর কেউ সাহস পাবেনা এই রকম ভাবে রাজউকের আইন অমান্য করে ও নিজেদের ইচ্ছে মত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মাণ করতে। এ বিষয়ে ভবন মালিকের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন ৪ শতাংশ জমির উপর আমি যদি রাজউকের অনুমোদন নেই তাহলে আমি আমার মত ভবন নির্মাণ করতে পারবো না,কারন রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমান জায়গা ছাড়তে হবে সে পরিমান জায়গা ছাড়লে আমি বাড়ি নির্মাণ করতে পারতাম না। তাই আমি রাজউকে যাইনি বা কোন অনুমোদন নেইনি। সামনের রাস্তা ও ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন করেছি সবই ঠিক আছে কিন্তু আমি কি করবো আমি তো নিরুপায়। আমার জমিনে আমি বাড়ি করছি এতে রাজউকের কি বলার থাকতে পারে। রানা প্লাজা বলেন আর বনানীর ১৭ নং রোডের এফ আর টাওয়ারের কথা বলেন, তারা তাদের মত করে ভবন নির্মান করেছেন, আমি আমার মত করে করেছি। এ বিষয়ে, রাজউক মহাখালী জোন ৪/১ এর পরিচালক দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন রাজউকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে, রাজউকের নকশার বিচ্যুতি করে অথবা রাজউকের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভবন নির্মান করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।