শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

নকশা বর্হিভূত বেজমেন্ট ব্যতিত ৯ তলার স্থলে ১০তলা ভবন নির্মানের অভিযোগ

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
news-image

-আমার জমিনে আমি বাড়ি করছি এতে কার কি বলার আছে?
শিমুলী আক্তার নীলু : রাজউকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, নকশা বর্হিভূত বেজমেন্ট ব্যতীত ৯তলার স্থলে ১০তলা করে এবং নির্মিতব্য ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মান করছেন দক্ষিণখান থানাধীন ৪১৬, লন্ডনী ভিলা জামতলা কাওলার দক্ষিনখান এর ভবন মালিক মোঃ হেলাল উদ্দিন গং। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক মহাখালী জোন-৪ /৩ এর আওতাধীন দক্ষিনখান মৌজাস্থ কাওলার এলাকার সি এস এ- দাগ নং ১৫২৭ (অংশ) আর এস- দাগ নং ৪১৮৮, ৪১৮৯ (অংশ) প্লটের উপর বেজমেন্ট সংখ্যা-১ও বেজমেন্ট ব্যতিত মোট ৯তলা আবাসিক ভবনের নকশার অনুমোদন নিয়ে ১০তলা করে ভবন নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন মালিক। রাজউকের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ও নির্মীতব্য ভবনের সম্মুক্ষে প্রায় ৫/৬ ফট, পশ্চাতে ৫/৬ ফিট, পূর্ব পাশে ৪/৫ ফিট, পশ্চিমে ৪/৫ফিট হারে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মানের কাজ সুকৌশলে দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন মালিক মোঃ হেলাল উদ্দিনগং। সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা তথ্য। রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ইতিমধ্যে নির্মান কাজ প্রায় শেষ করেছেন ভবন মালিক। আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ইমারত নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন প্রয়োজন। অনেকের নকশার অনুমোদন আছে কিন্তু রাজউকের নির্দেশনা মানছেনা দক্ষিনখানের কাওলার এলাকার বিভিন্ন প্লট মালিকরা। প্লট মালিকেরা রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মান করছে। এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রাজউকের আইন অনুযায়ী বৃহত্তর ঢাকা শহরের প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় নকশা অনুমোদনের জন্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে ইমারতের নকশা অনুমোদনের জন্য “রাজউক” ক্ষমতাপ্রাপ্ত। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বাড়ির নকশা থাকলেও সে অনুসারে ভবন নির্মান করছেন না। ইমারত নির্মান এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন ও সরকারি রাস্তা দখল করে ভবন নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।তবে তাদের মধ্যে অন্যতম ৪১৬, লন্ডনী ভিলা এর ভবন মালিক মোঃ হেলাল উদ্দিন গং। মানছেন না কোন নিয়ম কানুন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন পথচারীরা জানান, ডেভিয়েশন করে এভাবে ৯তলার স্থলে ১০তলা করে ভবন নির্মানের কারনে যেকোন সময় রানা প্লাজার মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ভবনের বিষয়ে ভবন মালিক মোঃ হেলাল উদ্দিন এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বিগত ৯ বছর যাবৎ অনেক সাংবাদিকদের সাথে চলেছি থেকেছি আমি জানি সাংবাদিকরা কি করতে পারবেন। এটা রাজউকের বিষয় রাজউক থেকে ইমারত পরিদর্শক বেশ কয়েকবার এসেছেন কিন্তু তিনি ডেভিয়েশন ও নকর্শা বিচ্যুতি সর্ম্পকে আমাকে কখনো কিছুই বলেননি। আমার জমিনে আমি বাড়ি করছি এতে রাজউক বা সাংবাদিক কার কি বলার আছে। রাষ্ট্রিয় আইন মানতে হয় তাই নকশার অনুমোদন নিয়েছি না হলে কোন কিছুই নিতাম না। আমাদের কি ক্ষমতা কম আছে? রানা প্লাজা বলেন আর বনানীর ১৭ নং রোডের এফ আর টাওয়ার বলেন পুরান ঢাকার ছুরিটোলা বলেন তারা তাদের মত করে ভবন নির্মান করেছেন,আমি আমারমত করে করেছি তারা ৩/৪ তলা করে বেশি করেছে আমি নাহয় ১তলা বেশি করেছি এত আমার কি আর হবে। আমি এগুলো নিয়ে চিন্তা করিনা কারন আমার উপর মহলের লোক জনের সাথে চেনা জানা ও সর্ম্পক রয়েছে,বর্তমান ক্ষমতাশীল দলের লোক আমরা, আমাদের সাথে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের সাথে ভালো সর্ম্পক রয়েছে যা আপনারা জানেন না। উল্লেখ্য গত ০৪-০৪-১৯ ইং তারিখে দৈনিক নতুন দিন পত্রিকায় উক্ত সংবাদ প্রকাশের পর মহাখালী রাজউক অফিসের সামনে ভবন মালিক হেলাল উদ্দিন এর ভাগিনা পরিচয়ে রাজউকের পরিদর্শককে অকথ্য ভাষায় গালাগালদেন এবং প্রতিবেদকের সাথেও অসৎ আচরন করেন। এই ভবনের বিরুদ্ধে কেন সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আর যেন কোন প্রকার সংবাদ প্রকাশ না করেন। যদি কোন সংবাদ প্রকাশ করেন তাহলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। হুমকির পরপরই প্রতিবেদক রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। রাজউক মহাখালী জোন-৪/৩ এর দায়িত্বে নিয়োজিত অর্থোরাইজড অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্তখবরকে বলেন, বর্তমান সরকার ও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ অন্যায়কারী যেই হোক না কেন, অথবা যতবড় ক্ষমতাশীল হোক না কেন তাকে কখনোই ছাড় দেওয়া যাবেনা। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, আইন সকলের জন্য সমান অধিকার রাখে। কেউ যদি রাজউকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে, রাজউকের শর্ত ভঙ্গ করে ৯ তলার স্থলে ১০ তলা করে ও নিজেদের ইচ্ছেমত ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মান করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।