শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

জয়পুরহাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এ্যান্টিবায়োটিক ও নানা যৌন উত্তেজক ঔষধ

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
news-image

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম নীতির কোন প্রকারের তোয়াক্কা না করে জয়পুরহাটের বিভিন্ন ঔষুধের দোকান, হাট-বাজার, ফুটপাতে ও পথে-ঘাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এ্যান্টি বায়োটিক সহ নানা ধরনের যৌন উত্তেজক ঔষধ। ফুটপাতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা নাম সর্বস্ব কোম্পানীর নি¤œ মানের ঔষধ বিক্রি করছেন জেলার সর্বত্রই অবাধে। এসব ঔষধ কিনে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সহজ সরল মানুষ, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। সেই সাথে অবৈধ কোম্পানীর নানা রকমের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ বিক্রির ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া অত্যন্ত বেশি মাত্রার যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন নব বিবাহিক যুবক প্রান হারালেও লোক লজ্জার ভয়ে তারা কেউ মুখ খোলেননি। এই ঘটনাগুলোকে হার্ট এ্যাটাক বলে চালানো হয়েছে বলেও জানা যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন প্রকারের পদক্ষেপ না থাকার ক্ষুদ্ধ জনসাধারন। জানা গেছে, ঔষধ প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ছাড়া ঔষধের ব্যবসা পরিচালনা করা আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, শুষ্ক ও রোদ মুক্ত স্থানে ঔষধ সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন নিয়ম নীতি রয়েছে। কিন্তু তা মানছেন না জয়পুরহাট শহরের কয়েকটি এলাকা, শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা, পাকার মাথা, জামালগঞ্জ চারমাথা ,জামালগঞ্জ বাজার, আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর বাজার, তিলকপুর, রায়কালী হাট, শ্রীরামপুর, জাফরপুর, জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাকার মাথা, দোগাছি, মঙ্গলবাড়ী, পুরানাপৈল, কাশিয়াবাড়ী, কোমরগ্রাম, দুর্গাদহ বাজার, ভাদসা, খঞ্জনপুর ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার, আলমপুর, মামুদপুর চৌমুহনী বাজার, ইটাখোলা, হিন্দা, পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি হাট-বাজার, বাগজানা, আটাপাড়া, শিমুলতলী বাজার, নওদাপাড়া, কুসুম্বা সহ বিভিন্ন বাজার, কালাই উপজেলার কালাই পৌর এলাকার একাধিক স্থানে, মাত্রাই বাজার, পাঁচশিরা বাজার, পুনট বাজার, পাঠানপাড়া বাজার, উদয়পুর বাজার, জিন্দারপুর, মোসলেমগঞ্জ বাজার, বৈরাগীরহাট, নুনুজ বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে স্থায়ী বিভিন্ন ঔষুধের কোন সহ এসব এসব এলাকার হাট বাজারেও অবাধে পাওয়া যাচ্ছে যৌন উত্তেজক বিভিন্ন প্রকারের সিরাপ ও ট্যাবলেট। এছাড়া এসব এলাকার ঔষধের দোকাপাট সহ হাট-বাজারের ফুটপাতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এ্যান্টিবায়োটিক ট্যালেট। কোন প্রকার ফার্মাসিষ্ট ছাড়াই অবাধে চলছে ঔষধের বেচাকেনা। এমনকি জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় সেসব দোকানপাটে টিনের চালার নীচে প্রচন্ড গরমের মধ্যে রেখে বিক্রয় করা হচ্ছে নানা জরুরী ঔষধও। জেলার বিভিন্নœ উপজেলার হাট-বাজার, পথে-ঘাটে ও ফুটপাতের ছোট ছোট ঔষধ ব্যবসায়ীরা অবাধে বিক্রয় করছেন বিভিন্ন অবৈধ ও আন্ডার গ্রাউন্ড কোম্পানীর যৌন উত্তেজন ঔষুধ।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, তারা বাজারের বিভিন্ন স্থানে মজমা বসিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন এ্যান্টিবায়োটিক, যৌন উত্তেজক কিং পাওয়ার অয়েল, পাওয়ার সেক্স অয়েল, এনজয় পাওয়ার অয়েল, স্ট্রং পেইনস ম্যাসেজ অয়েল, পেইন আউট স্প্রে, ডি বাজিকরণ, ইনজয়, পাওয়ার খার্টি, ম্যাক্স জেড, এ্যাপেক্স, ভিগোসা, সেকলো, লুমিসেক, ডেফরল, ভিটামিন বি ৫০ ফোর্ট, ক্যালসিয়ম-ডি, ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেনেগ্রা, টার্গেট সহ নানা ধরনের ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ীরা প্রতিবেদককে দেখে যৌন উত্তেজক ঔষধগুলো লুকিয়ে ফেলেন। তিলকপুরের সোহান হোসেন, শরিফুল হোসেন, শ্রীরামপুরের তৌহিদ ইসলাম, জয়পুরহাট শহরের আদর্শপাড়ার সোহাগ হোসেন, বৈরাগীর মোড়ের সুধারাম বাবুসহ অনেকেই বলেন, জয়পুরহাটের বিভিন্ন হাট-বাজার, পথে-ঘাটে ও ফুটপাতে দিনদিন বেড়েই চলেছে এসব অবৈধ ঔষধের ব্যবসা। এতে প্রশাসনের কোন ভূমিকায় দেখি না। প্রশাসন যদি কোন পদক্ষেপ নিতো তাহলে জীবন রক্ষাকারী নি¤œ মানের ঔষধ যত্রতত্র বিক্রি বন্ধ হতো। এসব বন্ধ না করলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েই চলবে। ঔষধ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ফার্মেসীতে যে ঔষধের দাম ২০টাকা সেটা এখানে ১০টাকায় পাওয়া যায়। আমরা গ্রামের মানুষ ঔষধ সম্পর্কে অতো বুঝি না। দাম কম পাই তাই এখান থেকে ঔষধ কিনি। সব ঔষধ দেখতে তো একই রকম কিন্তু ফার্মেসীতে দাম বেশী। তিলকপুর রেলস্টেশন ও হাটে এসব ঔষধ বিক্রেতারা বলেন, ফুটপাতে ঔষধ বিক্রি করার নিয়ম নেই। বিভিন্ন কোম্পানীর প্রচারে ও পেট বাঁচানোর জন্যই এসব ঔষধ বিক্রি করি। এসব ঔষুধের বৈধতা আছে কি না, তা আমাদের জানা নাই। এসব ঔষধ খেয়ে মানুষ উপকার পায় বলেই এ ধরনের ঔষধ চলছে খুব বেশি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কেউ কিছু বলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুনট, বটতলী, আলমপুর, বাগজানা, গোপীনাথপুর, রায়কালী, ভাদসা ও জামালগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে কিংবা টিনের চালার ঘুপরি ঘরে বসে যৌন উত্তেজক সহ নানা প্রকারের জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ বিক্রেতারা জানালেন অবিশ্বাস্য রকমের তথ্য। তারা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব টিনের চালাঘরে ঔষুধের দোকান পরিচালনা করে আসলেও ঔষুধ প্রশাসনের কেউ কোন আপত্তি করেননি। এ ছাড়া আমরা নানা রকমের ঔষুধের পাশাপাশি যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ট্যাবলেট বিক্রয় করছি। তবে এভাবে এসব বিক্রয় করা অবৈধ কিনা তা আমাদের জানা নাই। যৌন উত্তেজক এসব ঔষুধে লাভের পরিমান প্রায় অর্ধেক বলে আমরা এসব বিক্রয় করি।