মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বশেমুরবিপ্রবিতে ভিসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলন অব্যাহত

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : বিকেল হলেই যেন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাস মিছিলে মিছিলে আলোড়িত হতে থাকে। সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন হল এবং হলের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের একের পর খণ্ড খণ্ড মিছিল ক্যাম্পাসে আসে।

তারা ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের সামনে যোগ দেয়। কিন্তু, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেন আরো বেগবান হয়। ক্যাম্পাস ভর্তি শিক্ষার্থীরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।

বুধবার (২৫ সেপ্বেটম্বর) আন্দোলনের সপ্তম দিন। টানা এক সপ্তাহ তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ক্লান্তিহীন এ নিরবচ্ছিন্ন ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে আসার কথা রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন বিষয়ে ইতোমধ্যে ইউজিসি অধ্যাপক আলমগীর হককে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা এসে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিন-রাত ভিসির বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে স্লোগানের পর স্লোগান চলছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভিসির নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি লেখা বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করে। আন্দোলনের মুখে ২১ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, গত শনিবার ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আবোরো হামলার আশঙ্কা করছেন। সহকারী প্রক্টর হুমায়ূন কবির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় পদত্যাগ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও কোনো মামলা করেনি।

তবে হামলার ঘটনায় ভিসি নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি এবং ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন। ক্যাম্পাস উত্তাল থাকায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর ড. নুরউদ্দীন আহমেদ।

অন্যদিকে, আন্দোলনের ৭ম দিন (বুধবার) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বুধবার সংবাদ সম্মেলন, ভিসিকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা ছাড়াও দুই ঘণ্টার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে চোখে কালো কাপড় বেঁধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা প্রতিদিন ২০ জন করে শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচি পালন করে আর বাকীরা অবস্থান ককর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।