রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

শ্রীপুরে নিরীহদের বন মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, বাদ যায়নি সরকারি কর্মকর্তারাও; আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে উদ্বেগ

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : বনের জায়গার সাথে বসবাস বা জমি নেই এমনকি বন ধংস করছে না এমন ব্যাক্তিদের নামেও মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর বনের সম্পত্তি রয়েছে, এমন সম্পদ উদ্ধারে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মামলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামছুল আরেফীন।

ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষের নামে মামলা করে সরকারকে দেখানো হয় বন রক্ষার জন্য অনেক মামলা দেয়া হচ্ছে। অথচ মামলায় জর্জরিত বেশিরভাগ নিরীহ, নিপীড়িত, নিন্মশ্রেণীর, নিরপরাধ খেটে খাওয়া মানুষ।

ব্যাক্তি মালিকানা ও বনের জমি একই দাগে থাকায় সেখানে জোত মালিকগণ কিছু করতে গেলেই তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলা দিচ্ছে। আবার উৎকোচের বিনিময়ে মামলা থেকে এসব সাধারণ মানুষকে মুক্তি পেতে হচ্ছে। সরকারের কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির উদ্দেশেই এক শ্রেণীর বন কর্মকর্তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে শ্রীপুর বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। বন মামলায় সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের অভিযুক্ত করে হয়রানি করা হচ্ছে।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির উন্নয়ন নেই। পুলিশের সোর্সদের ৮০ ভাগ মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত। মাদক নির্মূলে এসব সোর্স নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুলিশ বিভাগকে কৌশলী ও অধিকতর তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন। একইসাথে তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপদানের অনুরোধ করেন।

উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২৩ মে বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তারিখ ও সেখানে তার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বন বিভাগ তাকেও অভিযুক্ত করেন। অথচ গত আগস্ট মাসে এবং জীবনে একবার তিনি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এরকম মামলাটিকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবী করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল আলম প্রধান বলেন, ১৯৭২ সনে শ্রীপুর উপজেলার চাওবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। অতি সম্প্রতি বিদ্যালয় ভবন নির্মানের জন্য পুরনো ভবন ভেঙ্গে সেখানে নতুন একটি পাকা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের সুর্য নারায়ণপুর বিটের ফরেস্টার মো. আনিছুর রহমান বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও ঠিকাদারদের অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। অথচ শ্রীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিল্পপতিদের দ্বারা বনের জায়গা দখল হয়েছে, এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার সাধারণ নিরীহ রিপরাধ মানুষের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে শ্রীপুর বাজার, বরমী বাজারসহ উপজেলার জনবহুল বাজারগুলোতে ফুটপাত দখল করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগ করেন বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার। সাংবাদিক আলফাজ সরকার বলেন, শ্রীপুর বাজারে সরকারি শেডগুলোতে যাদের ব্যবসা করার কথা তাদেরকে এখন সড়কের ওপর বসে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। ফলে বাজারের সড়কগুলো সংকুচিত এবং ফুটপাত দখল হচ্ছে। এখানে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ নেই।

গোসিঙ্গা ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত মামলাটি আইনী প্রক্রিয়ায় হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, সবাইকে সচেতন থাকার কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। মাদক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্যও তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামছুল আরেফীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওনা চৌরাস্তা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক, জেলা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের, সাংবাদিক প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ, সফিকুল ইসলাম মাস্টার, আলফাজ উদ্দিন সরকার, উপস্থিত ছিলেন মো. মোক্তার হোসেন, সাদেক মিয়া প্রমূখ।