মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

দৌলতপুরে কালীগঙ্গার তীব্র ভাঙ্গন, এক সপ্তাহে ২৮০ বাড়ি নদীতে

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
news-image

ঘিওর মানিকগঞ্জপ্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা জিয়নপুর ইউনিয়নে আমতলী মেম্বার পাড়া আমতলী, ছোনপাড়া ১নং ওয়ার্ডের বৈন্যা মাঝিপাড়া ২নং ওয়ার্ড মন্ডলপাড়া, ৫নং ওয়ার্ড লাউতারা, ৮নং ওয়ার্ডের আবুডাঙ্গার কিছু অংশ অন্যত্রে কালীগঙ্গার তীব্র ভাঙ্গনে ৭ দিনে ২৮০ বসত বাড়ী নদীগর্ভে। পদ্মা-যমুনার ভাঙ্গনের সাথে পাল্লা দিয়ে আমতলীতে ২০ দিন যাবত কালীগঙ্গার তীব্র ভাঙ্গনে মানুষের চোখে ঘুম নেই। আমতলীসহ বৈন্যা গ্রামে ভাঙ্গন যেন থামছে না। মানুষ এলাকা ছাড়া হচ্ছে, পরিচিত হারাচ্ছে, ভোটাধিকার নষ্ট হচ্ছে, হারাচ্ছে বাংলার রূপ আবাদি জমিসহ ঘর বাড়ি। জিয়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, আমতলীসহ আশ-পাশের গ্রামে তীব্র নদী ভাঙ্গনের কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা উপজেলা নির্বাহী বরাবর প্রেরণ করা হয়। ১০ দিন অতিবাহীত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে আসেন নি। ক্ষতিগ্রস্তদের সান্তনা পরের কথা। দেখার কেউ ছিল না ! ক্ষতিগ্রস্তদের ভরসা দেরিতে হলেও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস (ডিসি) মহোদয়ের ব্যবস্থাপনায় মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী ভাঙ্গন এলাকায় প্রাথমিক ভাঙ্গন ঠেকাতে ৩৫ শত জি ও ব্যাগ পাঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , গ্রামগুলো ভাঙ্গনের দৃশ্য, কোটি টাকার নির্মিত সরকারী আশ্রায়ন কেন্দ্র ভাঙ্গনের কবলে। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাবিল শেখের পুত্র সাবেক মেম্বার নজরুল, মৃত বন্দেআলী শেখের পুত্র জীবন শেখ, শিতল খানের পুত্র মোঃ বাচ্চু, মৃত সদর আলীর পুত্র মোঃ ইছান আলী প্রমুখ বলেন, দুই তরফে পানি বাড়া ও কমার কারনে এবার ভাঙ্গনটা বেশি। ৪নং ওয়ার্ডেও ইউপি মেম্বার আব্দুল মতিন বলেন, এ ওয়ার্ডেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৩০ পরিবার। ভাঙ্গনের বর্ননা দিতে গিয়ে জীবন শেখের বিবি করিমন বেগম (৫০) বলেন, ভোর রাতে নদী শান্ত থাকায় শুয়ে পরলাম। হইচই শুনে উঠে দেখি আমার ভিটে বাড়ির গাছপালা নদীতে চলে যাইবার লইছে। এহন ঘরটা নদীতে যাওয়ার উপক্রম। কই যামু কি করমু এই চিন্তায় দিশেহারা। বৃদ্ধ কাবিল শেখ (৭০) বলেন, যমুনার ভাঙ্গনের মতে এই নদীও মাস ব্যাপী ভাঙ্গন শুরু হইছে। এ ভাঙ্গন থামার নয় পুরো গ্রামটাই ভাঙ্গনে উজার হইয়া যাইবো।  দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমীনের সাথে মুঠোফনে কথা বললে তিনি জানান, ভাঙ্গন সম্পর্কে আমি অবগত । আমার প্রতিনিধিরা ভাঙ্গান এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আমিও যাব। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। ইতোমধ্যে ভাঙ্গন এলাকায় ৩৫শত জিও ব্যাগ প্রাথমিক পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গনরোধে সরকারীভাবে কাজ অব্যাহত থাকবে। ভাঙ্গন এলাকার ক্ষতি গ্রস্তদের নামের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসলে সরকারীভাবে তাদের সহযোগিতা করা হবে। এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন ও মুরব্বিগন মনে করেন ‘আমতলীতে’ পদ্মা- যমুনার এই শাখা নদীর তীব্র ভাঙ্গন জরুরী ভিত্তিতে ঠেকানো না গেলে সরকারী আশ্রায়ন প্রকল্প, আশ্রায়ন কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ১০ নং আমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক, আমতলী এফ এস উচ্চ বিদ্যালয় মসিজদ, মন্দির, মাদ্রাসা, বিশাল গরু হাট ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।