রবিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

গৃহবধূ ফারহানাজকে চাপা দেয়া ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসটি ঘুষ দিয়ে ঐ রুটে চলাচল করত

মুক্তখবর :
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
news-image

ঢাকা, রোববার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোছা. ফারহানাজের মৃত্যুর ঘটনায় ২৩ দিন পর চালক শামীম ছৈয়ালকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার সকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কাফরুলের কচুক্ষেতে বসবাসরত শামীমের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুরে। ডিবি বলছে, ৪ হাজার টাকার বেশি আয় করতে বেপরোয়া বাস চালিয়ে ফারহানাজকে হত্যা করে শামীম।
ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিস নামের ওই বাসটি ঢাকা থেকে ভৈরব রুটে চলার কথা থাকলেও প্রতিদিন ৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে মিরপুর-১৪ থেকে বনানী রুটে চলাচল করত। অথচ এই রুটের পারমিট ছিল না বাসটির।

পুলিশ জানায়, বাসটির পারমিট ছিল ঢাকা-ভৈরব রুটে। কিন্তু সে রুটে চলাচল না করে, পারমিট ছাড়াই মিরপুর-১৪ থেকে বনানী-কাকলী রুটে চলছিল ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসের বাসটি। অন্যদিকে চালক শামীমের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল হালকা ধরনের গাড়ি চালানোর। কিন্তু সে আইন লঙ্ঘন করে মাঝারি ধরনের বাস চালিয়ে আসছিল।

পুলিশ আরও জানায়, বেশি যাত্রী পাওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন শামীম। পেছনে থাকা একই কোম্পানির আরেকটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই রাজধানীর মহাখালীতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফারহানাজ নামে এক নারীকে চাপা দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের এডিসি মো. জোনায়েদ আলম জানান, ঘটনার দিনই বনানী থানায় একটি মামলা হয়। দায়েরকৃত মামলায় চালক শামীমকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণে চালক শামীম জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালীতে তাদের কোম্পানির আরেকটি বাস পেছন থেকে তাড়া করছিল। ওই বাসটি যাতে কোনোভাবে তাদের সামনে যেতে না পারে সেজন্য আমতলীতে ইউটার্ন নিয়ে দ্রুতগতিতে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করে সে। কিন্তু মহাখালী ফ্লাইওভারের শেষ মাথায় আসতেই গাজীপুরগামী ভিআইপি ২৭ নামের আরেকটি বাস এসে সামনে দাঁড়ালে তার বাসটি আটকে যায়। পেছন থেকে তাড়া করা নিজ কোম্পানির অপর গাড়িটি যাতে আগে যেতে না পারে এবং সামনের যাত্রী যাতে আগে নিতে পারে সে জন্য ডানে না গিয়ে বাম সাইট দিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে ফুটপাতের ওপর বাসটি উঠিয়ে দেন শামীম। সে সময় ফুটপাতের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি অফিসের ওই নারী কর্মকর্তা ফারহানাজ। বাসটি ফারহানাজকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারহানাজকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।