বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

খুলনায় স্ত্রী-সন্তানকে রূপসা নদীতে ফেলে হত্যায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ

মুক্তখবর :
অক্টোবর ৩, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : স্ত্রী ও ১৪ মাসের শিশু সন্তানকে ব্রিজের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে হত্যার দায়ে অন্তর হোসেন রমজান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শুনে কান্না শুরু করেন রমজান। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক বলেন, ২০১৭ সালের ২৭ জুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী তৈয়বা বেগম ও ১৪ মাসের শিশু আব্দুর রহিমকে হত্যা করেন রমজান। বরিশালে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ২৭ জুন রাত ৯টার দিকে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে খুলনার রূপসা ব্রিজে নিয়ে আসেন তিনি। পরে ব্রিজের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নদীতে ফেলে দেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নদীতে ফেলার দৃশ্য দেখে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে রমজানকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এরপর নদী হতে স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তৈয়বার মা রাশিদা বেগম বাদী হয়ে রূপসা থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল রূপসা থানা পুলিশের এসআই হামিদুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় ঘোষণা করে রায়ের ব্যাখ্যায় দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কেন অর্থদণ্ড করা হয়েছে এমন প্রশ্ন উঠতে পারে। যেহেতু আইনে উভয় দণ্ডের কথা বলা রয়েছে তাই মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দুটিই কার্যকর হবে। রায় পাঠকালে বিচারক আরও বলেন, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী এবং শিশু সন্তানকে হত্যা করতে পারে তাকে মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। সেই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড দিতে হবে। রায় ঘোষণার পর বিচারক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জানতে চান এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি-না? এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত রমজান হ্যাঁ জবাব দিলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে আপিলের সময় বেঁধে দেন বিচারক।