মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

কীটনাশক ব্যবহারে ধান পুড়ে শেষ

মুক্তখবর :
অক্টোবর ১২, ২০১৯
news-image

ঢাকা, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আমন ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারে এক বর্গাচাষীর প্রায় সাড়ে ৭বিঘা আমন ধান পুড়ে(জ্বলে) খড় হয়ে গেছে। কীটনাশক ব্যবহার করা নিয়ে বর্গাচাষী ও কীটনাশক ডিলার পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের মধ্য কালইর গ্রামে। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিশ দরবার হলেও শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কসবা ইউনিয়নের কালইর মৌজার সাড়ে ৭ বিঘা ধানী জমির মূল মালিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্ঠানপাড়ার মৃত সেতাব উদ্দীনের ছেলে সিরাজউদ্দীন। ওই জমি বর্গাচাষি হচ্ছেন মধ্য-কালইর গ্রামের মৃত আবতাব উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দীন। প্রায় ২৫দিন পূর্বে আলাউদ্দীন একই গ্রামের মেসার্স আবু বাক্কার এর কীটনাশকের দোকান থেকে জেনারেল এগ্রো কেমিকেল কোম্পানীর জাইকা-৯৫এসপি, জেনিজল-৩২৫এসপি, এবার্টন-১.৮ইসি ও জিওবান-৫০৫ইসি কীটনাশক গুলি তার জমিতে স্প্রে করেন। স্প্রে করার ২/৩ দিন পর জমির ধান জ্বলে(পুড়ে) খড় হতে থাকে। বিষয়টি মাঠের অন্যান্য কৃষককে আলাউদ্দীন অবহিত করেন, পরে কীটিনাশক ডিলারকে জানালে তিনিও পরদিন সকলে ক্ষেতের ধান পরিদর্শনে যান। কিন্তু কিকারণে ক্ষেতের ধান পুড়ে গেছে তা কেহই সে সময় নির্নয় করতে পারেনি।  একদিকে বর্গচাষী আলাউদ্দীন বরাবরই ডিলারকে দোষারোপ করছে, যে ভেজাল কীটনাশ প্রয়োগের কারনেই তার ক্ষেত পুড়ে গেছে। অপরদিকে কীটনাশক বিক্রেতা আবু বাক্কার বলছেন অতিমাত্রাই বা ঘাসমারা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবী করেন। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত গড়ালে নাচাল উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহাম্মেদ, উপসহকারী কর্মকর্তা রাকিব আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত পরিদর্শণ করেন।  বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে ডিলার আবু বাক্কার ও ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষী আলাউদ্দীন স্থানীয় ভাবে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে সমঝোতায় বসলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিস্পত্তি না হওয়ায় থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।  এ ব্যাপারে নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকতা বুলবুল আহম্মেদ এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি শুনে পরিদর্শন করেছি এবং ওই এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আলীকে ক্ষতিগ্রস্ত ধান পরিদর্শনে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তদন্ত করেছেন, তবে তদন্ত রিপোর্ট শেষে দোষী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।