মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ডিপিডিসির প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্তদের দুর্নীতির সন্ধানে দুদক

মুক্তখবর :
অক্টোবর ১৭, ২০১৯
news-image
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ (মুক্তখবর রিপোর্ট): দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. দিলোয়ার বখত সংবাদ মিডিয়াকে জানিয়েছেন ডিপিডিসি নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশলী) রমিজ উদ্দীন সরকারের অধিনে যে সব প্রকল্প রয়েছে তাতে দুর্নীতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সচিব জানান, এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্পদের অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনিয়ম-দুর্নীতির সম্পৃক্ত পেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, গত তিন বছরে ৫ টি মেগা প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাঁরা। ২০১৪ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি বড় বড় প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন ডিপিডিসির এই নির্বাহী পরিচালক মামলার আসামী। সেখান থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অর্থ। মেগা প্রকল্পগুলো হলো ২ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন। প্রতিটি মিটার গ্রাহকদের নিকট থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করা হয়। মিটার প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা গ্রহনে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই দুই লাখ মিটার স্থাপনের টেন্ডার পায় চীনের হেকজিং কোম্পানি। প্রিপেইড মিটার দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হেকজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ থোরাই কেয়ার করে আবারও ১ লাখ মিটার স্থাপনের টেন্ডার দিয়েছেন ডিপিডিসির এই দুর্নীতিবাজ রমিজ।  ২০১৯ সালের ফ্রেরুয়ারী মাসে প্রি-প্রেইড মিটারের কাজ শুরু করা হয়। ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে একক ক্ষমতা বলে চায়না হেকজিং কোম্পানিকে পূনরায় টেন্ডার দিয়েছেন মামলার আসামী। তবে স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তারা জানান, মেগা প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক রমিজ উদ্দিন গত দুই বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ঢাকা- নরায়ণগঞ্জে ৫ টি বিদ্যুতের উপ-কেন্দ্র (গ্রীড)নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে,রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, বনশ্রী, মুগদা এবং নারায়ণগঞ্জে। গত ২৯ জানুয়ারী তিন বছর মেয়াদে ডিপিডিসির ৯ টি ডিভিশন ডিএসএস-এর কাজ ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের টেন্ডার হয় প্রায় ২৮ কোটি টাকা। রাজধানীর কাওরান বাজারে ভূগর্ভস্থ একটি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। এই মেগা প্রকল্পে জাইকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ধানমন্ডি এলাকায় নতুন করে ভূগর্ভস্থ একটি সাব-স্টেশন স্থাপনে ২০ হাজার কোটি টাকা জি টু জি একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রমিজ উদ্দিন সরকারের আওতায় এসব প্রকল্প। এগুলো প্রজেক্টে তাঁর পছন্দের ৮ জন পিডি রয়েছে। তারা হলেন- প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহমুদ, ডিভিশন-১-এর পিডি ফেরদৌস, চীফ ইঞ্জিনিয়ার শহীদ (পিএনডি), নির্বাহী প্রকৌশলী-১, এর আবদুর রাজ্জাক, প্রিপেইড মিটার প্রকল্প পরিচালক মো. জোয়াদ্দার, (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) এসই বদরুল, ডিপিডিসির ক্রয় ও চুক্তি বিভাগের (এসই) মাহাবুবর রহমার, পিডি-২-এর প্রকল্প পরিচালক গিয়াস উদ্দিন এবং তত্ত্বাবধায়ক (প্রকৌশলী) আবদুর রৌফ। রমিজ উদ্দিন তাঁর পদাধিকার ক্ষমতায় এসব অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক মো. রমিজউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) প্রকৌশলী তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ১ কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এ ছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে নামে-বেনামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মানিল্ডারিং আইনে তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৭ টাকা স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও (৩) ধারায় দায়ী করা হয়েছে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসে। এরপর প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। চলতি বছরের ৭ মার্চ স্ত্রীসহ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, রমিজ উদ্দিনের নামে ঢাকায় পাঁচটি বাড়ি, গাজীপুরে ৩০ একর জমি এবং তার জন্মভূমি কুমিল্লাতে কয়েক একর জমি রয়েছে।এছাড়া তার স্ত্রী সালাম পারভীনের নামেও কুমিল্লায় কয়েক একর জমির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।