মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২ কর্মচারী হাতেনাতে আটক

মুক্তখবর :
অক্টোবর ১৭, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের টাকাসহ দুই কর্মচারীকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সহকারী পরিচালক আল-আমিনসহ দুদকের একটি দল উপস্থিত ছিল।

আটককৃতরা হলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী ও উপজেলার চকযদু গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫০) এবং নৈশপ্রহরী ও চকপ্রসাদ গ্রামের নিয়াজ উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক (৪০)।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে ধামইরহাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অফিসের সব কার্যক্রম শেষ করে অফিস বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক এর আগ মুহূর্তে অভিযান পরিচালনা করে ২৮ হাজার ৮৮৫ টাকাসহ রেজাউল ইসলাম ও এনামুল হককে আটক করে।

দুদক গিয়ে দেখেন অফিসের মধ্যে সারা দিনে দলিল রেজিস্ট্রির অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা গণনা ও ভাগবাটোয়ারা চলছিল।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, এ উপজেলায় জমি বেচাকেনা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হন। দাখিলার নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে ১ হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বাড়তি দিতে হয়।

এ ছাড়া মসজিদ, মন্দিরের নামেও বাড়তি টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া কাগজপত্র ভুল আছে সেগুলো সংশোধন করার নামেও হয়রানি হতে হয়।

আটককৃত অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্ররের নির্দেশেই তারা জমি রেজিস্ট্রি খরচের বেশি টাকা নিয়ে থাকেন। দিন শেষে হিসাবনিকাশ করে স্যার সেই টাকার কিছু অংশ আমাদের দিয়ে বাকিটা নিজের কাছে রাখেন।

সাব-রেজিস্ট্রার তাহাজ্জোদ আলী বলেন, জমি রেজিস্ট্রি করতে কোনো বাড়তি টাকা নেয়া হয় না। সরকারি যে ফি সেটিই দিতে হয়। তবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধামইরহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২১টি দলিল সম্পাদন হয় এবং তার সরকারি ফি হিসাব অনুযায়ী ৯ হাজার ৪৮৫ টাকা থাকার নিয়ম।

কিন্তু সেখানে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ২৮ হাজার ৮৮৫ টাকা পাওয়া যায়, যা অফিস সহকা রী ও নৈশপ্রহরী অনিয়ম করে এসব টাকা গ্রহণ করেছেন বলে স্বীকার করে। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারকেও আমরা নজরদারিতে রেখেছি।