মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ক্ষুধা দূরীকরণের পদক্ষেপ

মুক্তখবর :
অক্টোবর ১৯, ২০১৯
news-image

ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। তবে এক্ষেত্রে অগ্রগতি অন্য দেশগুলোর তুলনায় মন্থর। ফলে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের দুই ধাপ অবনতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রকাশিত বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন ২০১৯ অনুযায়ী, ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম, গত বছর যা ছিল ৮৬তম। অবশ্য এ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।
তাই সার্বিকভাবে বলা যায়, ক্ষুধা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তবে আগামীতে এ উন্নতির গতি আরও বাড়াতে হবে।

অধিক জনসংখ্যার এ দেশে ক্ষুধা ও অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা। কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য এ সমস্যা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে, সন্দেহ নেই। এর কৃতিত্ব মূলত কৃষকদের। তারা যাতে এক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে, ক্ষেত্রবিশেষে এ সহায়তা আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃষিজাত খাদ্য উৎপাদনে জাতীয়, দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক এবং বেসরকারি প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

গ্রামীণ জনগণের জীবনযাপন পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে- এমন কার‌্যাবলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃষকদের, বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে হবে।

ক্ষুধা সমস্যা সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উল্লেখ্য, এখনও দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং তাদের একটি অংশ অতিদরিদ্র। এরা অসহায় ও দুস্থ।

তাই ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এদের দিকে অধিকতর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এটি ঠিক, অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে।
অতিদরিদ্রদের একটি অংশ সরকারের এসব কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীলও বটে। তবে এ কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত সাহায্য তাদের জীবনধারণের খুব কম চাহিদাই পূরণ করতে পারে। বিশেষ করে এ কর্মসূচির আওতাবহির্ভূত অতিদরিদ্রদের বৃহত্তর অংশটি ক্ষুধা ও চরম পুষ্টিতে ভোগে।

অপুষ্টিতে ভোগার কারণে এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে চিকিৎসাও নিতে পারে না। ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনতে এই শ্রেণীর মানুষের প্রতি সহায়তার হাত আরও সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।