মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

বাবা-মা পেল ফেলে যাওয়া শিশুটি

মুক্তখবর :
অক্টোবর ২১, ২০১৯
news-image

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : নতুন বাবা-মা পেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফেলে যাওয়া শিশুটি। জেলা সমাজসেবা অফিস শিশুটিকে তুলে দিয়েছেন এক নিঃসন্তান দম্পতির হাতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রোববার সন্ধ্যায় ছেলেটির হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক দূর-রে শাহওয়াজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইলিয়াস মেহেদী, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমিন রহমান চৌধুরী ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দম্পতি।

সমাজসেবা কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর রাত ১১টায় কে বা কারা অজ্ঞাতনামা এক গর্ভবতী প্রতিবন্ধী নারীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে রেখে যান। পরে তাকে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোতাহের হোসেন সেন্টু স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি ওয়ার্ডে (লেবার বিভাগ) ভর্তি করান। রাত তিনটার দিকে তার প্রসব ব্যথা ওঠে। ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স মার্জানা বেগম ও কোহিনুর আক্তারের সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছেলে নবজাতকের জন্ম দেন ওই প্রতিবন্ধী নারী। তবে ১৪ অক্টোবর সকালে নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান তার প্রতিবন্ধী মা। এরপর থেকেই শিশুটিকে মায়ের মতো আগলে রেখেন ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকারা। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার সকালে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নারায়ণ চন্দ্র দাস শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। ওইদিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে বিষয়টি তারা জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে অবগত করেন।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি ওয়ার্ডের একটি বিশেষ কক্ষে (ভিআইপি) শিশুটিকে মায়ের যত্নে দেখাশোনা করতে থাকেন সেবিকরা। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন সেবিকা এই শিশুটিকে দেখাশোনা করেন।

ওয়ার্ডের ইনচার্জ সুবিথা রানী দাস বলেন, ‘শিশুটিকে জন্ম দেওয়া অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই নারী মানসিক ও বাক প্রতিবন্ধী ছিল। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো ছাড়া সম্ভবপর সকল সেবাই এই শিশুটিকে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিজ থেকে তোয়ালে, ভেজা টিস্যু, ফিডার, দুধ, ডায়াপারসহ অনেক কিছু দিয়ে গেছেন।’

শিশুটির দত্তক পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দম্পতির স্বামী বললেন, ‘আমরা নিঃসন্তান। শিশুটি মা-বাবার যত্নে বড় করব। সন্তান কি তা আমরা বুঝি। নিজের সন্তান থাকলে কেমন আদর করতাম জানি না। তবে এই শিশুকে তার থেকে বেশি যত্ন, আদর, স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় করে তুলব।’

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান বলেন, ‘শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে চারটি আবেদন জমা পড়ে। পরে যাচাই-বাছাই করে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৮৬ এবং উপধারা ১ ও ৩ এর বিকল্প পরিচর্যার অংশ হিসেবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন শিশুটির সার্বিক পরিচর্যা ও যত্নে মায়ের মতো সময় দেওয়ায় সেবিকাদের ধন্যবাদ জানান।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ‘আমাদের কাছে চারটি আবেদন জমা পড়েছিল। একটি কমিটি করে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুটির ভবিষ্যত চিন্তা করে দত্তক পাওয়া দম্পতি নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছেন। তাই তাদের নাম পরিচয় বলা যাচ্ছে না। তবে পিতা হিসেবে যিনি এই শিশুর দত্তক নিয়েছেন তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা।’