বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মায়ের কোলে ফিরে গেলো সেই মোনালিসা

মুক্তখবর :
অক্টোবর ২৩, ২০১৯
news-image

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ (নিজস্ব প্রতিনিধি) : হাসপাতালের সেবিকারা কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটির নাম রেখেছিল মোনালিসা। গত শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকার একটি বাড়ির সদর দরজার সামনে থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে রাখে পুলিশ। দ্বিতীয় স্বামীর অত্যাচারে শিশুটির মা রুমি আক্তার শিশুটিকে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে গণমাধ্যমে তার সন্তানের ছবি দেখে সে তার ভুল বুঝতে পারে।

অন্যদিকে, পুলিশ রুমি আক্তারকে খুঁজতে থাকে। গত ২১ অক্টোবর শিশুটির মাকে খুঁজে পায় পুলিশ। রিমু আক্তার তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানায়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কোলে তার সন্তানকে দেখতে পেয়ে তার মধ্যে নতুন করে মাতৃত্ব জেগে ওঠে। দুই দিন পর্যবেক্ষণের পর শিশুটিকে মায়ের হাতেই তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। অবশেষে সেই মোনালিসাকে মঙ্গলবার রাতে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন শিশুটির মা রিমু আক্তারের হাতে শিশুটিকে তুলে দেন।

এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলি, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় স্বামীর আপত্তির কারণে গত শুক্রবার রাতে ১৬ দিন বয়সের শিশু সন্তানকে পঞ্চগড়ের কামাত পাড়া এলাকার একটি মূল দরজার সামনে ফেলে রেখে চলে যান রুমি আক্তার। শিশুটিকে মায়ের হাতে তুলে দেবার সময় আবেগ ঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিশুটির মা রুমি আক্তার। এ সময় আর কখনো শিশুকে ফেলে যাবেন না বলে বলতে থাকেন তিনি।

সেই সাথে শিশুটিকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন। এসময় জেলা প্রশাসক ঐ শিশুটিকে লালন পালনে সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন। এর আগে ঐ শিশুটিকে দত্তক নিতে বেশ কিছু লোক লিখিতভাবে আবেদন জানায়। কিন্তু মানবিক ব্যাপারগুলো বিশ্লেষন ও বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন মায়ের হাতেই শিশুটিকে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শিশুটির মা রিমু আক্তার এর হাতে সাময়িক দশ হাজার টাকা, কম্বল, শুকনো খাবার এবং প্রসাধনী সামগ্রী প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, মানবিক ব্যাপারগুলো আমলে নিয়ে মায়ের কোলেই শিশুটিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিশুটির মাকে খুঁজে পাবার পেছনে পুলিশের জোড়ালো ভূমিকা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পেরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। শিশুটিকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে যে কোন ধরনের সহযোগীতা দেয়া হবে।