মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

জেল হত্যা দিবস আজ

মুক্তখবর :
নভেম্বর ৩, ২০১৯
news-image

ঢাকা, রোববার, ০৩ নভেম্বর ২০১৯ (স্টাফ রিপোর্টার) : ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে। কমিশন গঠন করে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে- জেল হত্যা দিবস নিয়ে এ কথা বলেছেন জাতীয় চার নেতার সন্তানেরা। তারা আরো বলেন, চার নেতার আত্মত্যাগ জাতি যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে।

মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার। জাতির জনকের অনুপস্থিতিতে সেই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সরকারের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম মনসুর আলী ও আ হ ম কামারুজ্জামান।

১০ জানুয়ারি স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু মুজিব দেশে ফিরে আসার পর, ভঙ্গুর বাংলাকে নতুন করে সাজাতে তার পাশে ছিলেন জাতীয় চার নেতা। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিনবছরের মাথায় পরাজিত শক্তিরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির জনককে। যে আশা আর স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন সোনার বাংলা গড়বেন বলে স্তব্ধ হয়ে যায় সেসব। জাতি হয়ে যায় দিশেহারা।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঠিক আড়াই মাস পরেই জাতীয় চার নেতার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেয়ার নির্দেশ আসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাকের পক্ষ থেকে। কারাগারের ভেতরে কতিপয় বিপথগামী সেনাদের বুলেট ঝাঁঝরা করে দেয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও আ হ ম কামারুজ্জামানকে। অবশেষে ১৯৯৬ সালে শুরু হয় বিচার কার্যক্রম, ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল এ মামলার রায় হয়। জাতীয় চার নেতার সন্তানেরা বলছেন তাদেরকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আদর্শকে তুলে ধরতে হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য।

এ প্রসঙ্গে তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, তখন কেন্দ্রীয় কারাগার ছিলো নাজিমউদ্দিন রোডে। বাবা বললেন, আমাদেরকে আর বাঁচিয়ে রাখবে না। আমি মুজিব ভাইকে স্বপ্ন দেখেছি। তিনি স্বপ্নে আমাকে বলছেন, তাজউদ্দিন ১৯৪৪ সাল থেকে আমরা এক সাথে ছিলাম। তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না। তুমি আমার কাছে চলে আসো। শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৪ নেতার আত্মত্যাগ যুগ যুগ ধরে স্মরণে রাখতে হবে। তারা ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের জন্য জীবন ত্যাগ করে গেছেন। তবে জেলহত্যার মদদদাতাদের খুঁজে বের করারও তাগিদ দেন তারা।