মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ফেসবুক সুরক্ষায় কী করবেন?

মুক্তখবর :
নভেম্বর ৫, ২০১৯
news-image

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৯ (আইটি ডেস্ক) : ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমছে। শুরুর দিকে স্বল্প পরিসরে ফেসবুকের ব্যবহার থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যম যেন হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান ছাড়াও ব্যবসাক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হয় ফেসবুক। কিন্তু এমন যদি হয় যে আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, তখন পড়তে হয় বড় ঝামেলায়। এমনকি এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গার কথাও শোনা যায় মাঝেমধ্যেই। তাই যদি আপনি নিজের সুরক্ষা চান, তাহলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষাও জরুরি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাই অবশ্য জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন আপনার উপকারে আসছে, ঠিক তেমনই এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কিছু পদ্ধতির কথা জানিয়েছে। এসব পদ্ধতি অবলম্বন করলেই এ ব্যাপারে ঝামেলা এড়াতে পারবে সবাই।

কখন বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে?

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মাধ্যমে আপনাকে জিম্মি করে ক্ষতি করতে চায়, তাহলে ওই অ্যাকাউন্টে আপনি নিজের পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না। আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ই-মেইল বা পোস্টও যেতে পারে। তখন আপনি বুঝবেন, আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন, কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন, আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে করণীয়

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ নম্বরেও জানাতে পারেন।

যেভাবে হ্যাক হয় ফেসবুক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে একটি ‘প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহার করা হয়। যেমন—পরিচিত বা অপরিচিত ঠিকানা থেকে আপনার কাছে একটি ই-মেইল পাঠানো হলো। এটিকে বলে ‘ফিশিং’ ই-মেইল। সেখানে কিছু ছবি, ফাইল বা লিংক থাকতে পারে। আপনি সেখানে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে একটি সফটওয়্যার ঢুকে যায় এবং আপনার কার্যক্রমগুলো মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

তখন দূরের কোনো স্থান থেকে ওই সফটওয়্যারটি যে বা যারা নিয়ন্ত্রণ করছে, তার কাছে আপনার তথ্যগুলো চলে যায়। এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যেমন হ্যাক করা যায়, তেমনি অন্য ই-মেইল অ্যাকাউন্টও হ্যাক করা যায়।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন

ফেসবুক, ই-মেইল বা গুগল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করার জন্য এত দিন বলা হতো—যত শক্তিশালী বা জটিল বর্ণ, ডিজিট দিয়ে পাসওয়ার্ড দেওয়া যায়, ততই তা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু সে ধারণা এখন পাল্টে গেছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে, যেগুলো দিয়ে পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলা সম্ভব। সে জন্য দুই ধাপে পাসওয়ার্ড ভেরিফাই (যাচাই) করা যায়, এমন ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।

যেমন আপনি যদি টু-ফ্যাক্টর ফিচার ব্যবহার করেন, সেটা নিরাপদ করবে আপনার অ্যাকাউন্টকে।

আপনার অ্যাকাউন্টে যদি অন্য ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করার চেষ্টা করে, তাহলে আপনার মোবাইলে বা ই-মেইলে একটি কোড নোটিফিকেশন আসবে। তখন আপনি জানতে পারবেন, আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আবার আপনি নিজে যদি অন্য ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি নিজেই তা চেক করে অনুমোদন দিয়ে অ্যাকাউন্টটি চালু করতে পারেন।

অপরিচিত ই-মেইল, লিংক এড়িয়ে চলা

যদি আপনার ফেসবুকে কোনো লিংক আসে, সেটি মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও হতে পারে—তাহলে তা এড়িয়ে চলুন। আমাদের কৌতূহল একটু কমাতে হবে। যেকোনো লিংক বা ই-মেইলে অ্যাটাচমেন্ট থাকলে তা ক্লিক করার আগে বা খোলার আগে সচেতন হবে হবে।

যেমন আপনার পরিচিত কোনো বন্ধু আপনার কাছে একটি লিংক পাঠাল, যেটি তার স্বভাববিরুদ্ধ হতে পারে। তখন আপনি তার সঙ্গে কথা না বলে ক্লিক করবেন না। হতে পারে আপনার ওই বন্ধুর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে এবং অন্য কেউ সেই লিংকটি পাঠিয়েছে।

এসব লিংক বা ফাইল খোলার ফল

এসব লিংক বা ই-মেইলে থাকা অ্যাটাচমেন্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যার থাকতে পারে, যেটি আপনার ডিভাইসে ঢুকে আপনার ডিভাইসের তথ্য চুরি করতে পারে।

তবে আপনি যদি কোনো ই-মেইল খুলে যা লেখা আছে, তা অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করে পড়তে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ম্যালওয়্যারটি আপনার ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহারে সাবধানতা

যেকোনো ধরনের সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাইরেটেড (চোরাই) সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সফটওয়্যার ও অ্যাপগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ব্যবহার করতে হবে।

হুট করে কোনো স্থান থেকে যদি আপনি সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডাউনলোড করেন, তাহলে আপনি নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারেন।

সেটিংস পরিবর্তন করা

আপনি যেসব ডিভাইস ব্যবহার করেন, সেসব ডিভাইসের সেটিংস অপশনে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় নিরাপত্তার জন্য পরিবর্তন করতে হবে। যেমন : লগইন অ্যালার্ট চালু করুন। লগইন অ্যাপ্রুভাল চালু করুন। অনুমতি ছাড়া আপনাকে যেন কেউ কোনো ছবি বা পোস্টে ট্যাগ না করতে পারে, সেই অপশন চালু করুন। এতে করে অন্যের কাজের দায়ভার আপনাকে নিতে হবে না। আপনি যখন অ্যাপ্রুভ করবেন, তখনই কেবল সেটা আপনার টাইমলাইনে আসবে।

সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরো যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে সবার আগে গোপনীয় ও সেনসেটিভ কনভারসেশনগুলো (স্পর্শকাতর কথাবার্তা) মুছে ফেলুন। হ্যাক হয়ে গেলে এসব কনভারসেশনগুলো দিয়ে হ্যাকাররা ব্ল্যাকমেইল করতে পারে বা অর্থবিষয়ক তথ্যগুলো হাতিয়ে নিয়ে আপনার ক্ষতি করতে পারে।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ফেসবুক প্রোফাইল বানান। বিশেষ করে জন্মতারিখ ও নাম ঠিক করে লিখুন। না হলে আপনার অ্যাকাউন্টকে ফেসবুক অথরিটি মিথ্যা বা ফেক (ভুয়া) ভাবতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিপদের সময় সহযোগিতা নাও পেতে পারেন।

সবাই নিজের প্রোফাইলের লিংক মনে রাখুন এবং নিউমেরিক আইডিটি কোথাও টুকে রাখুন, যেন হ্যাক হয়ে গেলেও এটি রেফারেন্স হিসেবে রাখা যায়।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি অপরিচিত কাউকে দেবেন না। অথবা যাকে দিচ্ছেন, তার ক্ষেত্রে ওই কপির অপব্যবহার রোধে সতর্ক করুন, না হলে ওই কপি ব্যবহার করে স্প্যামাররা আপনার আইডি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে।

৭. সেটিংসে ঢুকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড লগঅন’-এ গিয়ে ‘হয়্যার ইউ আর লগড অন’-এ দেখুন অপরিচিত কোনো ডিভাইস থেকে আপনার আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। হয়ে থাকলে ওই ডিভাইসগুলো রিমুভ করুন।

পারলে সেটিংসে ঢুকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড লগঅন’-এ ক্লিক করে সেটিংস আপ এক্সট্রা সিকিউরিটিতে তিন থেকে পাঁচজন ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট (বিশ্বস্ত ব্যক্তির নাম) যোগ করুন।

যে মেইল আইডি দিয়ে ফেইসবুক প্রোফাইল খুলেছেন, সেটার পাসওয়ার্ড মনে রাখুন। এবং তা নিরাপদে রাখুন। পারলে সেটিরও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। অনেক পুরোনো ‘ইয়াহু’ মেইল দিয়ে প্রোফাইল খুলে থাকলে এখনই ‘ইয়াহু’ মেইলটি পরিবর্তন করে জি-মেইল বা অন্য নিরাপদ ই-মেইল ব্যবহার করুন। ‘ইয়াহু’ মেইলটি হ্যাক হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এটা ইয়াহুর একটি দুর্বলতা।

যেকোনো সহায়তার জন্য সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের হটলাইনে কল করুন : ০১৭৬৯৬৯১৫২২

এ ছাড়া যুক্ত থাকুন ফেসবুকের এই পেজে : Cyber Security & Crime Division, CTTC, DMP