সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

দক্ষিণখানে ৮তলার স্থলে ৯ তলা ভবন নির্মান করছেন মতিউর গং 

মুক্তখবর :
নভেম্বর ৭, ২০১৯
news-image
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯ (শিমুলী আক্তার নীলু) : রাজউকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজউকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নকশার বর্হিভূতভাবে বেজমেন্ট ব্যতীত ৮ তলার স্থলে ৯ তলা করে এবং নির্মীতব্য ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন করে ভবন নির্মান করছেন দক্ষিণখান থানাধীন কাওলার মধ্যপাড়া নূর মদিনা মসজিদ রোড় এর মোঃ মতিউর রহমানগং। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক মহাখালী জোন-৪/৩এর আওতাধীন দক্ষিনখান মৌজাস্থ, কাওলার মধ্যপাড়া নূর মদিনা মসজিদ রোড় এলাকার সি  এস এ- দাগ নং ১৫১০ (অংশ) আর এস- দাগ নং ৪২৩০ (অংশ) এম এস দাগ নং ৩০৭০৬,৩০৭০৭ (অংশ)জে এল নং-১৯৩, প্লটের উপর বেজমেন্ট সংখ্যা -১ ও বেজমেন্ট ব্যতিত মোট ৮তলা আবাসিক ভবনের নকশার অনুমোদন নিয়ে ৯তলা করে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন মালিক মোঃ মতিউর রহমানগং। যাহার নির্মাণ অনুমোদন স্বারক নং- রাজউক/নঃ অঃশা/৩সি ৪/৩-১৮৩/১৪/৮০ স্থা. অনুমোদনের তারিখঃ-৩১-০৩-২০১৫ইং। রাজউকের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ও নির্মীতব্য ভবনের সমুক্ষে তথা উত্তর পাশে  প্রায়৫/৬ফিট, দক্ষিন পাশে ৩/৪ফিট, পূর্ব পাশে ৪/৫ফিট, পশ্চিমে ৪/৫ফিট ডেভিয়েশন করে এবং উক্ত ভবনের পশ্চিম পাশে রজউকের নিয়ম অনুযায়ী  যে পরিমান জায়গা ছাড়ার কথা রয়েছে এই ভবন মালিক তা না মেনে নিজের ইচ্ছেমত ভবন নির্মাণের কাজ সুকৌশলে দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মীতব্য ভবনের সামনে রাস্তা থাকার পরও উক্ত ভবন মালিক জনগনের চলাচলের শুবিদার্থে কোন সেফটি নেট ব্যবহার করেন নি। রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছেন ভবন মালিক।আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ইমারত নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন প্রয়োজন। অনেকের নকশার অনুমোদন আছে কিন্তু রাজউকের নির্দেশনা মানছেনা দক্ষিনখানের কাওলা এলাকার বিভিন্ন  প্লট মালিকরা। প্লট মালিকেরা রাজউকের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই  ভবন নির্মাণ করছে। এতে ইমারত নির্মাণ আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটছে  বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রাজউকের আইন অনুযায়ী বৃহত্তর ঢাকা শহরের প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় নকশা অনুমোদনের জন্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ ও ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ অনুসারে ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন নিয়ে উক্ত নকশা বহিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করছেন এই ভবন মালিক মতিউর রহমান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকার আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ভবনের চতুর পাশে ডেভিয়েশন করে এবং অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে ৮তলার স্থলে ৯তলা করে ভবন নির্মাণের কারনে ভবিষ্যতে এই ভবনটিও ২০০৮ সালের রানা প্লাজা ও গত ৪/৫দিন পূর্বের নারায়নগঞ্জের ভবন ধসের ঘটনার মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আমরা দেখেছি রাজউক মহাখালী অফিস থেকে ইমারত পরিদর্শকরা বেশ কয়েকবার এসেছেন এবং কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন কিন্তু জানিনা কোন হাতচানির পর ধীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কাজ নতুন করে পুনরায় ছালু করেছেন। তিনি আরো বলেন বর্তমানে আমাদের মনে হয় রাজউক খুব ডিলেডালা হয়ে গেছে আপনি এ এলাকা গুরলে দেখতে পাবেন আশপাশে প্রায় ৬/৭টি ভবন নির্মাণের কাজ দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর পুনরায় তারা কাজ করছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধুর সু-যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা
যেভাবে বলেছেন এবং গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম সাহেব যে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে ছেয়েছেন, রাজউক এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা যদি ঠিকমত কাজ করতেন তাহলে এই রাজধানী ঢাকা শহর  আধুনিক নগর রুপে রুপান্তরিত হতো। তাই আমরা আশা করবো রাজধানীতে যারা নকশার বহিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করছেন। রাজউক কর্তৃপক্ষ নতুন করে আবারো শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে তাদের বা এই সমস্ত ভবন গুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবেন এটাই মাননীয়মন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা।