মঙ্গলবার,২রা জুন, ২০২০ ইং

একান্ত সাক্ষাতকারে বীর মুুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিকুর রহমান

মুক্তখবর :
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০
news-image

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষেরসেবা করে যেতে চাই
নিখিল চক্রবর্তী: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এবং নেতৃত্বে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য এবং গর্বিত মনে করছি। এ কথাগুলো বললেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান। মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান টাঙ্গাইল শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। এ ছাড়া তিনি সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় মাদার তেরেসাসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানের একান্ত সাক্ষাতকার ও কথোপকথন তুলে ধরা হলো: সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন দৈনিক মুক্তখবর পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি নিখিল চক্রবর্তী।
মুক্তখবর : মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
চেয়ারম্যান : ছাত্র জীবনেই আমি অন্যায়ের প্রতিবাদী ছিলাম। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলাম-আছি। ৭১’র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে
পেরে আমি নিজেকে ধন্য এবং গর্বিত মনে করছি।
মুক্তখবর : যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোথায় কোথায় ছিলেন এবং কেমন ছিলেন?
চেয়ারম্যান : জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ডালুকা, কানাইবরা ও মোহনগঞ্জ ২১ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি ছিলাম। এ সময় গ্রেনেটের সেলে কর্নেল তাহের সাহেবের পা উড়ে যায়। টাঙ্গাইল জেলার লাউহাটিতে ৬ জন পাকবাহিনীকে আটক করি। ১৯৭১-এর ৯ ডিসেম্বর নাগরপুর হানাদার মুক্ত হয় এবং ঐদিনকে হানাদার মুক্তি দিবস হিসেবে পালিত হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। ৩০ লাখ বাঙালির জীবন ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রামহানীর মধ্যদিয়ে অর্জিত একটি দেশ-স্বাধীন বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আজ ১৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সবার কর্মজীবন ও আর্থ-সামাজিক মর্যাদা পাচ্ছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটি আমার অহংকার।
মুক্তখবর : যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আপনি কি কি করেছেন?
চেয়ারম্যান : শিক্ষা জীবন শেষ করে আমি ১৯৭১ সালে কর্মজীবনে যোগদান করি। পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হিসেবে মানিকগঞ্জ জলোর সিঙ্গাইর, সাটুরিয়া সহ বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করি। ছাত্র জীবনেই আমি বিজিআরসি ডিগ্রি কলেজ ও হাইস্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করি।
মুক্তখবর : কর্মজীবনের পর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার কি কি সামাজিক অবদান রয়েছে?
চেয়ারম্যান : পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাকে আমি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করেছি। জাতি ধর্ম বর্ণগোত্র নির্বিশেষে সবাই শান্তিশৃঙ্খলভাবে শ’ শ’ ধর্মপালন করতে পারছেন। আমিও সবার সাথে মিলেমিশে থাকি। আমি দুইবার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট, ধ্বংসপ্রাপ্ত সংস্কার, ইজিপিপি কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল-কলেজ, মন্দির-মসজিদ-মাদ্রাসা ও খেলাধুলার মাঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য।
মুক্তখবর : উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে উৎসাহ কেমন পাচ্ছেন?
চেয়ারম্যান : নিজ উদ্যোগে প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন করেছি। স্থানীয় এমপি আহসানুল ইসলাম টিটুর সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে আমার কর্মতৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে।
মুক্তখবর : সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রেখে আপনি সম্মান হিসেবে কি কি পদক পেয়েছেন?
চেয়ারম্যান : সম্মাননা সূচক হিসেবে আমি মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, পল্লী কবি জসিম উদ্দিন, স্বাধীনতা, একুশে, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, বিজয় দিবস, জজ ওয়াশিমটন, মাওলানা ভাসানী ও আব্রাহাম লিংক কন স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছি।
মুক্তখবর : এক মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
চেয়ারম্যান : মৃত্যুর কোল থেকে যেহেতু জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি তাই চাওয়া পাওয়ার আর আমার কিছু নেই। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন মানুষের সেবা করে যেতে পারিÑ এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।