শুক্রবার,১০ই জুলাই, ২০২০ ইং

‘বাংলাদেশি দর্শকরা অস্ট্রেলিয়ানদের থেকে অনেক বেশি নম্র’

মুক্তখবর :
মে ১৪, ২০২০
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০ (স্পোর্টস ডেস্ক): ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন পরের বছর নভেম্বরে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ভেন্যু অ্যাডিলেড। প্রথমে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ল অজিরা। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের ২৩০ রানের ইনিংসের সুবাদে মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫০। অন্যদিকে ২৩৩ রানে ৪ উইকেট চলে যাওয়ার পর ব্যাট হাতে অ্যাডিলেডের ড্রেসিং রুমের সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন ফাফ ডু প্লেসি। এমন সময় ঘটেছিল এক কাণ্ড!

তামিম ইকবালের ফেসবুকে যুক্ত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রোটিয়া তারকা বলেন, ‘অভিষেক টেস্ট নার্ভাস ছিলাম। দ্রুত নামতে গিয়ে আমার জুতা খুলে যায়। হাতে গ্লাভস থাকা অবস্থায় জুতা পরতে সমস্যা হয়। আমি নিচু হয়ে জুতা পরার চেষ্টায় ছিলাম। দুই পাশের গ্যালারিতে দর্শকরা আমার মাথার ওপরেই ছিল। বাজে মন্তব্য করছিল। ঠিক এমন সময় মাঠে পৌঁছে আমার অবস্থা বেশ খারাপ ছিল।’

তামিম বলেন, ‘এখানে বাংলাদেশের দর্শকদের পক্ষ থেকে যদি কিছু বলা হতো তাহলে হয়ত টের পেতেন না। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মতো বাংলাদেশি দর্শকরা ইংরেজিতে বলে না।’

ডু প্লেসি বলেন, ‘ইংরেজিতে কথা বলে না সেটা জানি। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় যথেষ্ট নম্র।’

ফেসবুক লাইভের হোস্টের দায়িত্বে থাকা তামিম বলেন, ‘সত্যি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক নম্র। তারা আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আমি যখন আপনাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি অনেক মানুষ খুশি হয়েছে। সত্যি বিশ্বাস করার মতো না।’

এরপর আবারও অ্যাডিলেড টেস্টের গল্প শুরু হয়। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রান করেছিলেন ডু প্লেসি। দল অলআউট হয় ৩৩৮ রানে। অজিরা দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৬৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রোটিয়াদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩০ রানের।

দ্বিতীয় ইনিংসে এসে হার এড়ানোটাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মূল লক্ষ্য। দেড় দিন ধরে ব্যাট করেছিলেন এবি ডিভিলিয়ার্স-ডু প্লেসি।
৪০৮ বল খেলে মাত্র ৮৯ রানের এই জুটি দেখলেই বোঝা যায়, কতটা ধৈর্য্য নিয়ে ব্যাট করতে হয়েছে তাদের।

দিনের শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন ডু প্লেসি। মোট সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান। শেষ পর্যন্ত ড্র করতে সম্ভব হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭৬ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ১১০ রান করে। অভিষেক ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।