শনিবার,৬ই জুন, ২০২০ ইং

ক্যানসার দেহে বাসা বাঁধার কারণ

মুক্তখবর :
মে ১৭, ২০২০
news-image

মানবদেহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ দিয়ে তৈরি। একই ধরনের অনেক কোষ মিলে দেহে কলা ও গ্রন্থ তৈরি হয়। এ কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর মারা যায় এবং পুরনো কোষের জায়গায় নতুন কোষ জন্ম নেয়। কোষগুলো নিজেরাই বিভক্ত হয়ে নিজেদের বৃদ্ধি ঘটায়। এ বৃদ্ধি স্বাভাবিক, নির্দিষ্ট ও নিয়মিতভাবে সংগঠিত হয়। এর মাধ্যমে মানুষের শরীরের কলাগুলোর কোষসংখ্যা বজায় থাকে।

ক্যানসারের কারণ: ক্যানসার হওয়ার কারণ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ আছে। তবে সাধারণ কিছু বিষয় ক্যানসার তৈরির কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়। যেমন- বয়স বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এর ফলে কোষগুলো স্বাভাবিক ক্ষমতা হারায় এবং টিউমার তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সাধারণত বয়স্কদের ক্যানসার হতে দেখা যায়।

খাবার এবং জীবনযাপনের ধারা: খাবার এবং জীবনযাপনের ধারার সঙ্গেও ক্যানসারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- ধূমপান বা মদ্যপানের সঙ্গে ফুসফুস, মুখ ও কণ্ঠনালির এবং যকৃৎ বা লিভার ক্যানসারের যোগসূত্র রয়েছে। একই ভাবে পান-সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ইত্যাদি খাবারের সঙ্গেও ক্যানসারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

পরিশ্রম বিমুখতা: সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করলে ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে।

পারিবারিক ইতিহাস: ক্যানসারের সঙ্গে জিনগত সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে পরিবারের কারো যদি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে, তাহলে অন্যদেরও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

পরিবেশ এবং পেশাগত কারণ: রাসায়নিক পদার্থের কারণেও ক্যানসার হতে পারে। যেমন- মেসোথেলিওমিয়ায় (এক ধরনের দুর্লভ ক্যানসার। এতে ফুসফুসের চারপাশ এবং পেটের দিকের কোষগুলো আক্রান্ত হয়) আক্রান্তদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এসবেস্টস ধাতুর সংস্পর্শে আসার কারণে এ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। পরিবেশগত কারণের অন্যতম একটা হচ্ছে সূর্য। রোদে বেশিক্ষণ থাকার কারণে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তেজস্ক্রিয়তার কারণেও বিভিন্ন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ক্যানসার প্রতিরোধে প্রাকব্যবস্থা: নিয়মিত কিছু বিষয় মেনে চললে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। যেমনÑ প্রতিদিন নিয়মিত কিছু সময় ব্যায়াম করা। মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়া। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া। চর্বিজাতীয় খাবার কম খাওয়া। ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া বা পরিমাণ কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। রোদে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন মেখে বের হওয়া। নিয়মিত ডাক্তার দেখানো। তা সম্ভব না হলে শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া। বয়স পঞ্চাশের বেশি হলে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে শরীর পরীক্ষা করানো।

লেখক: মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ক্যানসার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

চিফ মেডিক্যাল অফিসার

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

চেম্বার: মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিস লি.