রবিবার,১২ই জুলাই, ২০২০ ইং

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ করল ইউরোপের ৩ দেশ

মুক্তখবর :
মে ২৮, ২০২০
news-image

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ (মুক্তখবর ডেস্ক): করোনাভাইরাস থেকে মুক্তিতে সবচেয়ে আলোচিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে এবার নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়াম। এর আগে ওষুধটির মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে দাবি করে আপাতত এর ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এবার সেই পরামর্শে সহমত জানাল ইউরোপের এই তিন দেশ। বুধবার ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করে এ নির্দেশনায় জানায়, কোভিড-১৯ রোগীদের ওপর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ওষুধটি আপাতত ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভার ভেরান বলেন, হাসপাতালে ও বাসায় ব্যক্তিগতভাবে কোনো চিকিৎসকই তার রোগীকে প্রেসক্রিপশনে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সেবনের কথা লিখবেন না। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা রোগের ওপর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার উচিত হবে না। শুধু তাই নয়, ওষুধটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে ট্রায়ালের সময়ও এর ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। এদিকে জানা গেছে, বিতর্কিত এই ওষুধের একটি ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের আংশিক অর্থায়নে ৪০ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর এই ট্রায়ালে অংশ নেয়ার কথা ছিল।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ওষুধটি করোনা রোগীদের হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যাসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়। এর পরই ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড তাদের সেই ট্রায়াল বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক আইনপ্রণেতা। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতাকে আমলে না নিয়ে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে ব্রাজিল সরকার। একইভাবে ওষুধটির ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এই ওষুধের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি নিজেও এটি সেবন করেছেন বলে জানিয়েছিলেন। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনাযুদ্ধের ‘গেমচেঞ্জার’ বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: পলিটিকো, রয়টার্স